মাসুদ রানা ॥
২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়াসহ তিনটি দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের প্রতিবাদে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। সোমবার সকাল থেকে সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুর সদরসহ জেলার এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষকরা স্কুলে উপস্থিত হলেও তাদের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন। প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। তবে চাঁদপুরে কোন জায়গায় শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি করতে দেখা যায়নি।
সকালবেলা কিছু কিছু স্কুলে প্রাথমিক শাখার শিক্ষার্থীরা স্কুলে উপস্থিত হলে শিক্ষকবৃন্দ তাদের নিয়মিত শ্রেণী কার্যক্রম চালিয়েছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে মাধ্যমিক শাখার শিক্ষার্থীরা স্কুলে উপস্থিত হলে ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীরা ছিল কিন্তু শিক্ষকবৃন্দ তাদের পাঠদান থেকে বিরত ছিলেন।
এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, সামনে আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা এই পরীক্ষার আগে যদি এরকম অবস্থা হয় তাহলে আমাদের লেখাপড়ার সমস্যা হবে। এমনিতেই বিগত দিনে আমাদের শিক্ষা নিয়ে বহু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, এখনো যদি এরকম সমস্যা হয় তাহলে আমাদের সঠিক মূল্যায়ন কিভাবে হবে। তাছাড়া যারা মানুষ গড়ার কারিগর, যাদের হাত দিয়ে আমাদের বাবা-মা, বড় ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী সহ আমরা মানুষ হয়ে উঠবো তাদেরকেই যদি এভাবে অসম্মানী করে, গায়ে হাত দেয় এটাও চিন্তার বিষয়। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এর সঠিক বিচার এবং যথোপযুক্ত সমাধান করা হোক।
একজন শিক্ষক বলেন, বাংলাদেশে এমন কোন জায়গা আছে যেখানে মাত্র ১৫০০ টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা খরচ কোথায় পাওয়া যায়? আমাদের দিকে সরকারের একটু দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
অন্যান্য শিক্ষকরা বলেন, আমরা সুবিচার পাচ্ছি না। ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে আমাদের শিক্ষকদের ওপর হামলা করা হয়েছে, গায়ে হাত তোলা হয়েছে, সাউন্ড গ্রেনেড মারা হয়েছে, জল কামানের দ্বারা জল নিক্ষেপ করা হয়েছে। অবিলম্বে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া এবং ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
চাঁদপুর সদরে একাধিক স্কুল-কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল বেলা শিক্ষকরা স্কুলে উপস্থিত হলেও মাধ্যমিকের ক্লাসসহ কোনো কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কর্মবিরতি চলছে। গতকাল শিক্ষকদের ওপর যে হামলা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। এই সরকার থেকে এটি আমরা আশা করিনি। আমাদের পাঁচ সহযোদ্ধাকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।
তারা আরো বলেন, গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের শিক্ষক সমাবেশে লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত ছিল। ওইদিন শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেসিকের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস পার হলেও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ।যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের তিনটি বিষয় নিয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের কর্মসূচি চলবে।
![]()