মনিরা আক্তার মনি :
মতলব উত্তরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় মুসলমানদের প্রাণের অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে চীর নিদ্রায় সায়িত সকল কবরবাসীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় হরিণা কবরস্থান মাঠ প্রাঙ্গণে ১০ম বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
১৪ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বাদ আছর হইতে সারারাত ব্যাপী ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন- বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. মুকবুল হোসেন খান, প্রধান উপদেষ্ঠা, মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটি, হরিণা কবরস্থান। মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- চাঁদপুর-০২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আলহাজ্ব মো. নুরুল আমিন রুহুল।
নুরুল আমিন রুহুল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামের জন্য অনেক সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ইতিহাসে এ প্রথমবার রাষ্ট্রীয় খরচে আলেম ওলামাদের হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ ধারা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় তিনি বলেন, দেশের এক পঞ্চমাংশ লোক ইসলামী শিক্ষায় পড়াশোনা করেন। সেই কারণে আওয়ামী লীগ সরকার কওমি মাদরাসা শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কওমির সর্বোচ্চ শিক্ষাকে আমাদের সরকার এমএ পাসের মর্যাদা দিয়েছেন। যাতে করে ওই শিক্ষায় শিক্ষিত মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও প্রশাসনসহ সরকারের উচ্চ পদে চাকরি করার সুযোগ পায়।
রুহুল বলেন, একটা জীবনের জন্য যা কিছু নির্দেশনা সবকিছু পবিত্র কুরআন শরীফে দেয়া আছে। যা রাসূলুল্লাহ (স.) এর সহীহ হাদীসেও স্পষ্ট উল্লেখ আছে। আমরা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে ইসলামি শিক্ষাকে সংক্রীর্ণ মনে করি। ইসলামি শিক্ষা থেকে আমরা আদব কায়দা, নৈতিকতাসহ চলার পথের যাবতীয় সব কিছু শিখতে পারি। যা অন্য কোথাও নেই। এজন্য আমরা বলবো ধর্মীয় অনুশাসন মেনে আমাদের চলা উচিত।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পথ অনুসরণ করে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন এ দেশে ইসলাম পরিপন্থী কোনো আইন বাস্তবায়ন করা হবে না।
বিশেষ অতিথি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ মাইনুল হোসেন খান (নিখিল), মতলব উত্তর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস। মাহফিল পরিচালনা করেন- হাফেজ মাওলানা মো. কাইছার আহম্মদ ও জনাব হযরত মাওলানা আবু সুফিয়ান। মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলেমে দ্বীন সু-মধুর কন্ঠস্বর, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মো. এহ্সানুল হক জেহাদী আল মোজাদ্দেদী।
বিশেষ বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন হযরত মাওলানা মুফতী মো. শামছুল হুদা মাসুমী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা নেছার আহম্মেদ। আরো ওয়াজ করেন হজরত মাওলানা শহীদুল ইসলাম সিদ্দীকী।
ওয়াজ শেষে দেশ জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মার কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
![]()