আরেফিন সুমন:
সাজ্জাদ হোসেন মাদ্রাসার হাফেজ ছিলেন। ছাত্র নতার আন্দোলনন শরীক হয়েছিলান। ফ্যাসিস্টের উৎখাতে রাজপথে গুলিতে মারা গিয়েছিলেন। তার ভাই শাফায়াত। এখনো সে প্রায় মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় তার ১১ বছরের বড় ভাই সাজ্জাদ হোসেনকে বলে যায়। নিজের ছোট্ট মনকে বুঝায়। বাবা মা নিশ্চুপ থাকেন। কি করা উচিৎ বুঝতে পারছেন না। ঠিক এই রকম ‘২৪ এর অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের হাজারো পরিবারের অবস্থা। শহীদ সাজ্জাদ হোসের মত অনেকেই সরকারের পতনের জন্য আত্নাহুতি দিয়েছেন।
সেই জুলাই শহীদদের সম্মান জানাতে চাঁদপুরে ৩১ জন শহীদের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর উদ্যেগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
গতকাল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বড় রঘুনাথপুরের ৫ নং ওয়ার্ডে শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সাব্বিরের বাড়ির কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। উল্লেখ্য, সাজ্জাদ হোসেন ২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বরে আন্দোলনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কবর জিয়ারত শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, আসলে আপনারা জানেন ৫ ই জুলাই এই দিনটা বিশেষভাবে ৩৬ জুলাই নামে বিখ্যাত হয়ে আছে। আপনারা জানেন যে গত বছরে ঠিক এই সময়ে কতো অগণিত জুলাই যোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। আজকে আমরা সবাই এখানে সমবেত হয়েছি সকল শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য। আমরা সবাই তাদের জন্য দোয়া করি। যাতে তারা যে আন্দোলনটা করেছেন এবং যে উদ্দেশ্যে করেছেন আমাদের কর্তব্য হচ্ছে আমরা দেশবাসী সবাই মিলে তা পূরণ করতে পারি। তাদের রক্তের চেতনা যাতে হারিয়ে না যায়।
চাঁদপুরে ৩১ জন শহীদের কবরস্থানে যাওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ শ্রদ্ধায় দিনটি পালন করছি। আমরা সব শহীদের কবরে ফুল দিচ্ছি। পুরো জেলাজুড়ে বিভিন্ন কবরস্থানে প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও আমাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন গুলো যথাযথ এই দিনটি পালন করে যাচ্ছে।
জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রকিব উদ্দিন (পিপিএম) বলেন, আমি প্রথমেই শহীদদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি। আজকে চাঁদপুর জেলায় মোট একত্রিশ কবরে {৩১} যথাযথ মর্যাদায় এ দিবসটি পালন করা হচ্ছে। একই সাথে এ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসটি যাতে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নিরাপত্তার সাথে উদযাপিত হয় সেজন্য আমরা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রত্যেকটা জায়গায় আমাদের পুলিশি পাহারা ও তৎপরতা অব্যাহত আছে। আশা করছি আজকের এই দিনটি সুন্দর, নির্বিঘ্নে পালিত হবে।
শহীদের বাবা জসিম রাজা বলেন, আমার ছেলে হারিয়ে ফেলেছি। আমার ছোট ছেলেটা এখনো তার বড় ভাইয়ের কবরে গিয়ে মাদ্রাসার যাওয়ার সময় বিদায় নিয়ে আসে। গত শীতেই তার কবরে গিয়ে কম্বল দিয়ে এসেছিলো। আমরা কিছু বলি না। আমরা শুধু একটাই দাবী জানাই। এই জুলাইয়ে আমার ছেলেসহ হাজার হাজার মানুষের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।
আরো পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নৌ পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, জেলা রেলওয়ে থানা, সদর উপিজেলা ও কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার উন্নয়ন অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা শিক্ষা অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠন সমূহ।
![]()