আরেফিন সুমন ॥
গাইডিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ বিষয়ক কারিগরি ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণের এক দিনের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
বাংলাদেশ গার্ল গাইড এসোসিয়েশনের আঞ্চলিক কমিশনার (চলতি দায়িত্ব ) এডভোকেট ফাহমিদা জেবিনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক বলেন, আসলে আপনারা আমন্ত্রণ না জানালে আমি জানতেই পারতাম না এই কার্যক্রম চলমান আছে। ১৯০৯ সালে এসে মেয়েরাও স্কাউটসে যোগদান করেন। কিন্তু সে লক্ষ্য মেয়েরা পূরণ করতে পারে নাই। তারপরই কিছুদিন পর গার্ল গাইড এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হলো। এ সংগঠনটির যাত্রাটাই শুরু হলো নারীদের অধিকার বঞ্চিত হওতার ক্ষোভ থেকে যেখানে ইংল্যান্ড বা ইউরোপে নারীরা দেয়ালে আটকে থাকতো। আমি সবসময়েই ফ্যাক্ট উপস্থাপন করি। হয়তো এতে আমার সমালোচনা হতে পারে কিংবা হয়। দেখুন আপনারা আজকে এখানে যারা এসেছেন তাদের বলি আপনারা যারা শিক্ষক হয়েছেন, যারা বিভিন্ন জায়গায় চাকুরী করছেন তারা বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতের মত যারাই আন্দোলন করেছেন, বিপ্লবী হয়েছেন তাদের অবদান ছাড়া আপনারা এখানে কাজ করতে পারতেন না। আপনারা একটা নারীর জন্য কি করেছেন? সমাজে নারীর ভূমিকা পালনে আপনারা কিছু করেছেন? আমি বলবো করছেন না। আমি একটু পিছনে যাই। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) স্ত্রীরা যারা ছিলেন তাদের মধ্যে একজনের নাম ছিল খাদীজা (রা:)। উনি ব্যবসা করতেন। তার আরেক স্ত্রী আয়েশা রা: যুদ্ধে গিয়েছিলেন। তারাও তো পর্দা করেছেন। কিন্তু পর্দা করে ঘরে বসে থাকেন নাই। এই যে আপনারা পর্দা করেন, বোরখা পরেন আপনারা ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছেন। আপনারা নিজেরাই তো বের হতে পারছেন না। এরকম চিত্র সমাজের সর্বত্র। আপনারা নিজে চাকুরী পেয়েছেন তাতেই আপনারা খুশি। একটা মেয়ে স্বামীর দ্বারা অত্যাচারিত হবে না, বাবার সম্পত্তি বুঝে পাবে না, সমাজে চলাফেরার ব্যপারে পিছিয়ে পড়বে না সে ব্যপারে আপনার ভূমিকা নেই বললেই চলে। আপনারা এখনও সেই পূর্বের তথাকথিত সমাজ ব্যবস্থায় পড়ে আছেন।
তিনি বলেন, আপনারা শিক্ষকতা করছেন। কিন্তু কারো না কারো দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন। সমাজকে বদলে দেয়ার মত কিছু করছেন না। আপনাদের অনেক নারীকে আমি দেখি যাদেরকে আমার দেখে বিপ্লবী মনে হয় না। শুধুমাত্র স্বার্থপরের মত বেঁচে আছেন। আপনারা হতাশ হতে পারেন আমার কথা শুনে কিন্তু এটাই সত্যি। আপনারা হিজাব পরে আসছেন কিন্তু হিজাবের ভেতরেও আলো জ্বলে। আপনারা ধর্ম পালন করেন কিন্তু আপনাদের প্রতিভা, মেধা প্রস্ফুটিত করেন। আপনারা আপনাদের বিকশিত করেন।
তিনি দু:খ প্রকাশ করে আরও বলেন, আমি এখানে এতদিন হলো আসার পর আপনাদের সেক্রেটারি আমকে বলে যে স্যার আমরা কিছু নারীকে সার্টিফিকেট বিতরণ করবো। আপনার উপস্থিতি প্রয়োজন। আমি আসার এতদিন পর যারা আমাকে এই দাওয়াত দেয় সেই সংগঠন খুঁড়িয়ে চলতে বাধ্য। আপনারা একটি শক্তিশালী সংগঠন। আপনাদের কাজ হলো নারীদেরকে সমাজে বহিরাঙ্গনে নিয়ে আসার। আবহমান কাল থেকে নারীরা ঘরে চার দেয়ালে স্বামীর মনোরঞ্জনে ব্যস্ত। নারীদের এই ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসেন, সমাজে পরিচিত করিয়ে দেন। এই গার্ল গাইড একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম। যে মেয়েটা গার্ল গাইডের সদস্য হবে তার শক্তি বাড়বে। সমাজে অন্যায়, অবিচার, নারীদের অধিকার আদায়ে সে রুখে দাঁড়াবে। গার্ল গাইড একটা মেয়েকে আত্নবিশ্বাসী করে তোলে। নারীকে শেখায় নারী তুমি শুধু নারী নও, তুমি সমাজের একজন আলোবর্তিকা। সেটা পরিবারের সবার জন্য। আপনি আপনার মেয়ে, মা, বোনের জন্য আলোকবর্তিকা হবেন। পরিশেষে আমি বলবো আপনাকে সরব হতে হবে, জড় পদার্থের মত থাকলে চলবে না।
মাতৃপীঠ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা সোহেলী সুলতানার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ, জেলা কমিশনার আলেয়া ফেরদৌস, চাঁদপুর সদর উপজেলার স্থানীয় কমিশনার মোরশেদা ইয়াসমিন, জেলা গার্ল গাইড এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ কাজী সুরাইয়া আক্তার গার্ল গাইড এসোসিয়েশনের প্রশিক্ষক মোসাম্মৎ নুরুন্নাহারসহ প্রমুখ।
গার্ল গাইড এসোসিয়েশনের আয়োজনে উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল, কারিগরি ও মাদ্রাসার ত্রিশ জন শিক্ষিকাকে ট্রেনিং শেষে সনদ প্রদান করা হয়।
![]()