প্রতিষ্ঠিত সকলের পিছনেই শিক্ষকের অবদান রয়েছে : জেলা প্রশাসক 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥

চাঁদপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে রবিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে এ আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।

এ সময় তিনি বলেন, যারা এ জাতিকে ন্যাশন বিল্ডিং স্থাপনে কাজ করছেন, তারা হলেন শিক্ষকরা। বিশ্বে বিভিন্ন দিবস রয়েছে কিন্তু এই বিশ্ব শিক্ষকতা দিবসের কেন্দ্র করে হচ্ছে তা হলো একজন আদর্শ শিক্ষক। আপনারা জাতিগতভাবে কি ধরনের ভূমিকা রাখতে পারেন, আপনারা সমাজে কিভাবে পরিচত সেটা তুলে ধরেই বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবস ছাড়াও আপনাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দেয়া হয়। এটা একদিনের জন্য নয়, এটি সব সময়ের জন্য। অর্থাৎ শিক্ষকরা সব সময়ের জন্যই সম্মানিত শুধু কেবল দিবসে নয়। যারাই আজ প্রতিষ্ঠিত তাদের সকলের পিছনেই শিক্ষকের অবদান রয়েছে। শিক্ষকদের মূল্যায়ন, তাদের অবস্থান অনেক উপরে। সমাজে মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দরকার হয়, তখন শিক্ষকদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কাজ শুরু করে। লেখাপড়া ছাড়াও কিন্তু শিক্ষকরা সমাজে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ শিক্ষকরা সৎ পরামর্শ দেন, স্বার্থহীন পরামর্শ দেন, শিক্ষকরা নৈতিক পরামর্শ দেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের মধ্যে আমরা ব্যাক্তিগত ক্রোধ না রাখি, স্বার্থান্বেষী না হই এবং গোষ্ঠীগত সমস্যা না টেনে নিয়ে আসি। আমরা আমাদের সমাজে শিক্ষকদেরকে সম্মান করবো, তাদের প্রতি ব্যাক্তিগত কোনো আক্রোশ টেনে নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করবো না। এসময় একজন শিক্ষককে দেখিয়ে তিনি বলেন, আজকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস, অথচ আপনি টি শার্ট পরে এসেছেন। এটা আপনার পেশাদারিত্বের সাথে যায়না।

এসময় জেলা প্রশাসক শিক্ষকদেরকে তাদের নীতীশ নৈতিকতা, পোষাক, আচার আচরণ এবং কালচার সম্পর্কে হাতে ধরে দেখিয়ে এসব কথা বলেন। তাঁদেরকে আরো পরিপাটি হয়ে হবে, আরো মর্যাদাবান হতে হবে, শিক্ষার্থীদের সামনে একজন শিক্ষককে মডেল হতে হবে।

অনেক শিক্ষক রয়েছেন একাধিক বিয়ে করেছেন, আড্ডার সাথে জড়িত, অসৎ কাজে জড়িত এমনকি সমাজের বিভিন্ন কার্যকলাপে লিপ্ত আছেন, এমন শিক্ষক কখনোই পেশাদারিত্বের সাথে নেই। অর্থাৎ এই পেশাদারিত্বের ঘাটতি তার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রয়েছে নয়তো তার আচরণে , নয়তো বা তার ব্যাক্তি স্বার্থে রয়েছে। শিক্ষক তার পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ক্লাসে শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর নকল দেখেও না দেখার ভান করেন, তখন তিনি তার পেশাদারিত্ব কিভাবে ঠিক রাখেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল মাননান, জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএমএন জামিউল হিকমা’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির চাঁদপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, হামানকর্দ্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান খান, আনোয়ার ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার সুপার জিয়াউদ্দিন খন্দকার মাহবুব, চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ হারুন অর রশিদ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইকবালুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমরা যারা শিক্ষক, আমরা আমাদের ভিতরের, শিক্ষকরা আমাদের প্রকৃত পদ প্রদর্শক। তাদের আত্বমমর্যাদায় জাতিগতভাবে সহযোগিতা করে আসছেন, সবাইকে আজকেজর এই শিক্ষক দিবসে স্যালুট জানাই। এছাড়াও শিক্ষকদের মান মর্যাদা যেন বৃদ্ধি পায় এবং শিক্ষকদেরকে যেন মান মর্যাদা ছেড়ে রাস্তায় অবরোধে না দাঁড়াতে হয় সে বিষয়েও তারা অনুগত করেন।

তারা আরো বলেন, আজকের এই দিনটি বিশ্বে প্রায় শতাধিক দেশে পালিত হচ্ছে। আর আজকে আমাদের দেশে দিবসটি পালনের জন্য জেলা প্রশাসন আমাদেরকে সহায়তা করছেন। আমরা জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। শিক্ষকের স্বীকৃতি, শিক্ষকের আত্বমর্যাদা এবং শিক্ষকদের উন্নয়ন ঘটলে শিক্ষার উন্নয়ন ঘটবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। শিক্ষকতা একটি পবিত্র পেশা, একটি মহান পেশা এবং অনেক দামী একটি পেশা। আজকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা যেন আমাদের আত্বতৃপ্তি বয়ে আনে। আমরা শিক্ষাকে এবং শিক্ষকতাকে দিন দিন বানিজ্যিক বানিয়ে ফেলেছি। এই বানিজ্যিক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতি, ল্যাব স্থাপন, উন্নত অবকাঠামো স্থাপনা তৈরি করাসহ শিক্ষার দিকে আন্তরিকভাবে নজর দিবেন বলে প্রশাসনের প্রতি আমরা দৃষ্টিপাত করছি।

তারা আরো বলেন, আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক হলেন আমাদের মা-বাবা। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকরা। এসময় বক্তারা সমাজের বিভিন্ন সম্মানিত শিক্ষকদের উদাহরণ দিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেন, শিক্ষকতার সকল গুণাবলী তুলে ধরেন। শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, আগামীর দেশ গড়ার কারিগর বলে তারা তাদের মূল্যবান মন্তব্য করেন। মা যেমন একজন সন্তানকে ভূমিষ্ঠ করে তাদেরকে দুনিয়াতে আলোর মূখ দেখায়, তেমনি পৃথিবীর আলোকে আলোকিত করে শিক্ষকরা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পি দত্ত রনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মোঃ মকবুল আহমেদ এবং গীতা পাঠ করেন বিদ্যুৎ সরকার।

 

Loading

শেয়ার করুন: