নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান বলেছেন, পিআর ছাড়া নির্বাচন হলে দেশ আবার অন্য চোরের কাছে চলে যাবে। দুর্নীতি লুটপাট আগের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়বে। জুলাই আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে না। দেশ আবার চাঁদাবাজদের দখলে চলে যাবে।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের উপর গণভোট আয়োজনসহ ৫-দফা দাবি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও গণমাধ্যম কর্মীদের বিফ্রিংয়ে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সহ-সভাপতি গাজী মুহাম্মদ হানিফ, সেক্রেটারি কেএম ইয়াসিন রাশেদসানী, জয়েন্ট সেক্রেটারি শাহজামাল গাজী সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমাদ, মাওলানা ইমরান হোসাইন, আবুল বাশার, মুহিব্বুল্লাহ বেপারি, হাফেজ নেয়ামতুল্লাহ, মাওলানা আল-আমিন, হাবিবুর রহমান, হাফেজ তানজিল পাটওয়ারী, ইমরান খান বাদশা প্রমুখ।
জেলা সভাপতি আরও জুলাই জাতীয় সনদের আইনগত ভিত্তি প্রদান ব্যতীত ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অভ্যুত্থান ও তার অর্জন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে বলে আমরা মনে করি। আমরা মনে করি ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমুক্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষে প্রয়োজনীয় পক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ, ভোটকেন্দ্র দখল, পেশিশক্তি প্রদর্শন ও ভোটের বিভিন্ন অনিয়ম ও অপতৎপরতা বন্ধ, কোয়ালিটি-সম্পন্ন পার্লামেন্ট এবং দড়্গ আইনপ্রণেতা তৈরিসহ প্রতিটি ভোট মূল্যায়নের লক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন,বিগত সরকার বিভিন্ন স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদি পদক্ষেপের মাধ্যমে সংবিধান, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করে ধ্বংস করেছে। হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দের উপর জুলুম-নির্যাতন, মামলা-হামলা, জেল-জরিমানা, গুম, খুন করে দেশপ্রেমিক কণ্ঠকে স্তমিত করতে চেয়েছে।
দিনের ভোট রাতে নির্বাচনের নামে জাতীর সাথে প্রহসন করেছে। আর এ সমস্ত অবৈধ কার্যক্রমগুলোকে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল শুধু প্রকাশ্যে সমর্থনই দেয় নাই বরং জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার বিরম্নদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাই স্বৈরচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে জনগণ জোর দারি জানাচ্ছি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫-দফা দাবিসমূহ:
১.আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও উক্ত আদেশের উপর গণভোট আয়োজন করা।২.আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা।৩.অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষে সকলের জন্য লেভেল ফ্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।৪.ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা। ৫.স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
আমরা মনে করি উল্লেখিত দাবিসমূহ বাস্তবায়িত হলে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে যা বাংলাদেশকে একটি অনন্য উচ্চতায় আসীন করবে।
![]()