গিয়াসউদ্দিন মিলন ॥
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সারা দেশে চার কোটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী বাজেটের পর সবার হাতে এই কার্ড পর্যায়ক্রমে পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এদেশের মানুষ এক যুগ ধরে আন্দোলন করার পর রাজনৈতিক বিজয় পেয়েছে। সেই বিজয় নস্যাৎ করার জন্য একটি মহল চক্রান্ত করছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সবাই মিলে এই চক্রান্ত প্রতিহত করব।
শনিবার বিকেল ৫টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আজ চাঁদপুর থেকে ২০ টি জেলায় এক যুগে ১৫ হাজার পরিবারের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। এর আগে আরো দুই দফায় ৩০ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম করে অনেক জীবনের বিনিময়ে দেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে। আমরা গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম। আর বাংলাদেশের জনগণ সেই আন্দোলনে সফল হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পূর্বে সাসদ ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক প্রধানমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেন।
বিএনপি নেতার দাবির প্রেক্ষিতে তারেক রহমান বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডার) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী কে চাঁদপুরে একটি ইপিজেড নির্মাণের সম্ভবতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত নারীদের বিনা বেতনে পড়ালেখা করার সুযোগ করে দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ এখন থেকে স্নাতক পর্যন্ত নারীরা বিনা পয়সায় পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ দেশের ২০ কোটি মানুষের হাতকে দক্ষ হাতে রূপান্তর করতে হবে, তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।
এর আগে বিকেল ৪টায় তিনি সদর উপজেলার ঘোষেরহাটে বিশ্ব খাল পুন ঃখননের উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
এর আগে দুপুরে তিনি চাঁদপুরের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে শাহারাস্তি উপজেলায় উয়ারুখ বাজারের খোর্দ্দ খাল পুনঃখননের শুভ উদ্বোধন করেন। এবং পরে খালপাড়ে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।
চাঁদপুরে সফরসঙ্গী ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ডক্টর এ কে এম শামসুল ইসলাম, শিক্ষা ও গবেষণা উপদেষ্টা মাহাদি আমিন, জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইফ মিয়া নুরুদ্দিন অপু, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ মো, ছালেহ শিবলী , সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড, মো, মাহমুদুল হক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক আহাম্মদ জিয়াউর রহমান, পুলিশ সুপার রবিউল হাসান প্রমুখ।
স্থানীয় এমপিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর -৫ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, চাঁদপুর -২ আসনের ডক্টর জালাল উদ্দিন, মহিলা এমপি রাশেদা বেগম হীরা, চাঁদপুর -৪ আসনের সাবেক এমপি লায়ন মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সলিমুল্লাহ সেলিম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বাবুল খান, দেওয়ান মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান, খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু, এম এ শুক্কুর পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, শহর বিএনপি’র সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ, জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান আকাশ, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক কুবের শিরিন সুলতানা মুক্তা, জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কোহিনুর রশিদ, ছাত্রদল সভাপতি ইসমাইল পাটোয়ারী,সেক্রেটারি জিয়াউদ্দিন সোহাগ প্রমুখ।
![]()