মেঘনা বার্তায় সংবাদ প্রকাশের পর মতলব উত্তরে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে বিচারিকের মামলা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে স্বপ্রণোদিত (সু-মোটো) হয়ে অপরাধ আমলে নিয়েছেন মতলব উত্তর আমলী আদালতের বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ।

একই সঙ্গে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধার, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং এ ঘটনায় গৃহীত আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিন কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজারকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

আদালত জানা যায়, গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে দৈনিক মেঘনাবার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত “মতলব উত্তরে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক” শীর্ষক প্রতিবেদন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহর নজরে আসে। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৭৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে অপরাধটি আমলে গ্রহণ করেন।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংবাদে গত তিন মাসে মোট ১২টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। যা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

বিষয়টিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহ ইতোমধ্যে চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধার এবং চোরদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজারকে নির্দেশ প্রদান করেন।

একই সঙ্গে বর্ণিত ঘটনাগুলোর বিষয়ে কোনো মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যক্রম রজু করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জকে।

দৈনিক মেঘনাবার্তায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মতলব উত্তর উপজেলায় গত তিন মাসে অন্তত ১২টি পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ এক মাসেই ছয়টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। ফলে যেসব এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি হচ্ছে, সেসব এলাকার গ্রাহকরা তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। পাশাপাশি নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে স্থানীয় গ্রাহকদের।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আদালতের স্বপ্রণোদিত অপরাধ আমলে গ্রহনের ফলে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাগুলোর কার্যকর তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও জোরদার হবে এবং পাশাপাশি অপরাধের মাত্রা হ্রাস পাবে।

 

Loading

শেয়ার করুন: