ওলামা লীগ নেতার বিরুদ্ধে দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারী অনাস্থা

 

 

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি :

অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে চাঁদপুর জেলা ওলামা লীগের সাবেক সভাপতি এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম লাডুয়া কেরামতিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান সভাপতি মো. আব্দুল কাদের মিয়ার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন নথিপত্র সংযুক্ত করে ২২ জনের স্বাক্ষরসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস বিষয়টি তদন্ত করছে।

অভিযোগে বলা হয়, পশ্চিম লাডুয়া কেরামতিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান সভাপতি মো. আব্দুল কাদের মিয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি, বিধিসম্মত এমপিও বেতন বিলে অহেতুক স্বাক্ষর না করে আটকে রাখা এবং পরিচালনা কমিটির সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মো. আব্দুল কাদের মিয়া ২০২৩ সালের ৩১ মে মাদ্রাসার সুপার পদ থেকে অবসর নেন। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কোনো দাপ্তরিক বা প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন না। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময়ে কোনো বৈধ পদবি বা অনুমোদন ছাড়াই তিনি অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রূপসা বাজার শাখার একটি হিসাব থেকে পরপর তিনটি চেকের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ জুন ৩৯ হাজার টাকা, ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি ২৯ হাজার টাকা এবং একই বছরের ২ জুলাই ৭১ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ২২ জনের স্বাক্ষর সংবলিত অনাস্থা আবেদন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়।

ইউএনও অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব দেন। ইতোমধ্যে তিনি মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করে শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

মাদ্রাসার শিক্ষক কাউছার আহাম্মদ বলেন, ‘আব্দুল কাদের মিয়া দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছেন। বাধ্য হয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা একযোগে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছি। জুলাই মাসের বেতন ইউএনও প্রতিস্বাক্ষর করে ব্যাংকে পাঠালেও সভাপতির আপত্তির কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত ২৭ আগস্ট পর্যন্ত বেতন ছাড়েনি। এতে আমরা সবাই অর্থকষ্টে রয়েছি। আমরা প্রতিষ্ঠানটিকে এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার সভাপতি মো. আব্দুল কাদের মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি তদন্ত শুরু করেছেন। মাদ্রাসায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত শেষে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

 

Loading

শেয়ার করুন: