নৌ পুলিশের ২ মাসের অভিযানে ৮১ মামলা, আটক ১২৯ জব্দ সাড়ে ৬ হাজার মিটার কারেন্ট জাল

 

নিজস্ব প্রতিনিধি :

নদীই চাঁদপুরের প্রাণ। পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়াসহ অসংখ্য নদ-নদী ঘিরে গড়ে উঠেছে এ জেলার জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও অসংখ্য নৌযান চলাচল করে এসব নদীপথে। আর সেই নৌপথ নিরাপদ রাখা, নদীকে ঘিরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় মাঠে সক্রিয় রয়েছে চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশ।

নদীপথে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট-এই দুই মাসে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে নৌ-থানা পুলিশ। মাত্র দুই মাসে ৮১টি মামলা দায়ের, ১২৯ জন আসামি আটক, ৬ হাজার ৬২৮ মিটার কারেন্ট জাল, ২০টি নৌকা ও ৩০টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা ও ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি নৌ-থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর  এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নৌ-থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওসি মো. আজমগীর চলতি বছরের জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে চাঁদপুরে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নদীপথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযানকে গুরুত্ব দেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই ও আগস্ট মাসে নৌ-থানা পুলিশের অভিযানে মৎস্য আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বেপরোয়া গতিতে নৌযান চালানোর ঘটনায় একের পর এক মামলা করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ কারেন্ট জাল, নৌযান ও বাল্কহেড জব্দের পাশাপাশি মাদক উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।

চলতি বছরের জুলাই মাসে নৌ-থানা পুলিশের অভিযানে মৎস্য আইনে ১৯টি, মাদক আইনে ১টি এবং বেপরোয়া গতি আইনে ২০টি-মোট ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়।
এসব মামলায় ৭২ জন আসামিকে আটক করা হয়। অভিযানে ২ হাজার ৪০০ মিটার কারেন্ট জাল, ৮টি নৌকা ও ২০টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। এ সময় ৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জুলাই মাসে ৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

একই বছরের আগস্ট মাসেও থেমে থাকেনি অভিযান। এ মাসে মৎস্য আইনে ২৬টি, মাদক আইনে ৪টি এবং বেপরোয়া গতি আইনে ১০টি-মোট ৪১টি মামলা দায়ের করে নৌ-থানা পুলিশ।

এসব মামলায় ৫৭ জন আসামিকে আটক করা হয়। অভিযানে ৪ হাজার ২২৮ মিটার কারেন্ট জাল, ১২টি নৌকা ও ১০টি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

অর্থাৎ জুলাই ও আগস্ট-দুই মাসের অভিযানের হিসাব বলছে, নদীপথে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ রক্ষা, অবৈধ নৌযান নিয়ন্ত্রণ ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দিয়েছে নৌ-থানা পুলিশ।

নৌ-থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর বলেন, নৌ-থানা পুলিশ নদীপথকে নিরাপদ এবং জনসাধারণসহ যানবাহন চলাচলে সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, নদীপথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদীকে ঘিরে সংঘটিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক, অবৈধ জাল কিংবা বেপরোয়া নৌযান-আইনের আওতায় আসা প্রতিটি বিষয়েই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার কথা জানান তিনি।

চাঁদপুরের মানুষের কাছে নদী কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; নদীকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এখানকার অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবিকা। ফলে নদীপথে একটি দুর্ঘটনা কিংবা অপরাধ শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, কখনো কখনো পুরো নৌযাত্রা ব্যবস্থাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে।

বেপরোয়া গতির নৌযান, অবৈধ কারেন্ট জাল, মাদক পরিবহন কিংবা নদীপথকেন্দ্রিক অন্যান্য অপরাধ, এসব নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই।
নৌ-থানা পুলিশের সাম্প্রতিক দুই মাসের পরিসংখ্যান অন্তত সেই তৎপরতারই একটি চিত্র তুলে ধরছে। তবে অভিযান শুধু সংখ্যার হিসাবেই সীমাবদ্ধ না রেখে নদীপথে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকাই এখন বড় প্রত্যাশা।

কারণ নিরাপদ নদীপথ মানেই নিরাপদ যাত্রী, নিরাপদ নৌযান এবং নদীকে ঘিরে থাকা মানুষের নিরাপদ জীবন-জীবিকা। আর সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে মাঠে থাকা নৌ-থানা পুলিশের প্রতিটি অভিযান তাই কেবল একটি মামলা বা জব্দের হিসাব নয়, নদীকেন্দ্রিক জনজীবনকে নিরাপদ রাখারই একটি প্রচেষ্টা।

শেয়ার করুন: