স্টাফ রিপোটার :
অপরাধীকে আটকের নামে বেআইনিভাবে মারধর, অপমান ও জনসমক্ষে হেনস্তা এবং কথিত মাদক প্রদর্শনের ঘটনায় মব সন্ত্রাস ও কিশোরগ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস মুজাহিদুর রহমান।
আদেশে বলা হয়, ‘বিবশষুযধলরমড়হল’ নামের একটি নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখাল বাজারে কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল তরুণ কর্তৃক একটি মুদিদোকানে উপস্থিত এক প্রবীণ ব্যক্তিকে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে এক তরুণের হাতে ইয়াবা সদৃশ মাদক দেখা যায় যা ব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তাকে মোবাইলে সংবাদ দেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ভিডিওচিত্রের কথোপকথন থেকে ওই প্রবীণ ব্যক্তি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর বলাখাল ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিজাম কাজী বলে প্রকাশ পায়। ভিডিও ধারণের সময় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না।
জাস্টিস অব দ্য পিসের আদেশে আরও বলা হয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি বা আটকের ক্ষমতা কোনো প্রাইভেট ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি। ভিডিও পর্যালোচনায় আরও প্রতীয়মান হয় যে, কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল তরুণ একজন প্রবীণ নাগরিকের দোকানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে দন্ডবিধির ১৪৩ ও ৪৪৮ ধারা অনুযায়ী অপরাধজনক অনুপ্রবেশের অপরাধ করেছে। একই সঙ্গে ওই প্রবীণ নাগরিককে একাধিক তরুণ প্রকাশ্যে অপমানজনকভাবে মারধর ও গালাগালি করেছে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৫০৬ ধারার অপরাধ সংঘটনের বিষয়ও উঠে আসে। কোনো সন্দেহভাজন অপরাধীকে বেআইনি জনতা কর্তৃক আটক করে মারধর করা সভ্যতার নিকৃষ্টতম মব কালচারের যা সামাজিক নৈরাজ্যের বহিঃপ্রকাশ। এর ফলে একজন নাগরিকের সংবিধানের ৩১ ও ৩৫ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারও লঙ্ঘিত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
জাস্টিস অব দ্য পিস আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের অপরাধপ্রবণ উচ্ছৃঙ্খল তরুণদের কর্মকাণ্ডে সম্প্রতি বেশ কিছু নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আইন প্রয়োগের আওতায় এনে কিশোরগ্যাংয়ের উচ্ছৃঙ্খলতা ও বেআইনি কর্মকাণ্ড বিচারিক প্রক্রিয়ায় দমন করা না গেলে জননিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই আইনের শাসন সমুন্নত রাখা ও উপযুক্ত সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কিশোরগ্যাং এবং মব কালচারের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ প্রয়োজন বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
আদেশে আলোচিত ভিডিও ও ছবির ঘটনায় অনুপ্রবেশকারী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহসহ সাক্ষীদের তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হাজীগঞ্জ সার্কেল, চাঁদপুরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ঘটনাটিতে কিশোরগ্যাং কর্তৃক আটক করা প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথিত মাদক উদ্ধারের অভিযোগে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা পূর্বোক্ত তারিখের মধ্যে অবহিত করার জন্য হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।