কেএম নজরুল ইসলাম :
নিজস্ব ভবন না থাকায় ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ২০ লক্ষ টাকার বিশেষ বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর-২ শাখার অধনে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের উন্নয়ন বাজেটে পৌরসভাসমূহের জন্য ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ অবমুক্তকরণ করা হয়েছে। ২৯৩টি পৌরসভার মধ্যে ৫১টি পৌরসভা পাচ্ছে ৩০ লক্ষ টাকা করে। বাকী পৌরসভাগুলো পাবে ২০ লক্ষ টাকা করে।
কিন্তু দুর্ভাগ্য ফরিদগঞ্জ পৌরসভা তথা পৌরবাসীর। একটি ভবনের অভাবে ২০ লক্ষ টাকার মতো অনেক কিছুই হারাতে হতে পারে। ২০০৫ সালে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম শুরু। ২১ বছরের মাথায়ও ভবন তো দূরের কথা, ভবন করার জন্য এক টুকরো জমিও ক্রয় করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অথচ এই পৌরসভা জনপ্রতিনিধিও পেয়েছে, প্রশাসকও (সরকারি আমলা) পেয়েছে। কিন্তু কেউই ভূমি ক্রয় করতে পারেননি। পর্যায়ক্রমে ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত হলেও নিজেদের একটি ভবন করতে পারেনি। ২০০৫ সালের আগে এটা ছিল ১৩নং ফরিদগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ। পৌরসভার তথ্যমতে ডাকবাংলোর কাছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি রয়েছে। সে ভূমির ফয়সালা কী হবে তা জানতে চায় পৌরবাসী।
অর্থ বিভাগের ৩০ আগস্ট ২০০০ খ্রি. তারিখের অম/অবি/উ.১/বিবিধ- ৪৬/৯৭/৪৬৯ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/বিভাগকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের ‘পৌরসভা উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের অধীন ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাত হতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন পৌরসভাসমূহের পৌর ভবন ও পৌরসভার আওতাধীন অন্যান্য ভবন, অডিটরিয়াম, ডাকবাংলো, হাটবাজার ও মার্কেটসমূহে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকরণের লক্ষ্যে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে পৌরসভাসমূহের অনুকূলে ৩০ লক্ষ এবং ২০ লক্ষ অর্থ অবমুক্তির সরকারি মঞ্জুরী জ্ঞাপন করা হয়েছে।
উপসচিব আশফিকুন নাহার-এর স্বাক্ষরযুক্ত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চিফ একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার বরাবর পাঠানো হয়। অনুলিপি হিসেবে ৯টি দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে প্রশাসক (সংশ্লিষ্ট পৌরসভা), জেলা ও উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাগণও আছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারলে স্থানীয় চাহিদা (বিদ্যুতের) মিটানো যেত। ফরিদগঞ্জ পৌরভবনের বিদ্যুতের চাহিদাও পূরণ হতো।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ভবন নেই তাই আমরা এই বরাদ্দ পাইনি। যেসব পৌরসভার ভবন রয়েছে তারা এই বরাদ্দ পেয়েছে।”
বাংলাদেশের মোট ২৯৩টি পৌরসভাকে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে তালিকায় ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নেই! ২১ বছরেও পৌরসভার ভূমি অধিগ্রহণ হয়নি, এর দায় কি সাবেক মেয়র ও প্রশাসকরা এড়াতে পারবেন? ২০২৭ সালের নির্বাচনে সাবেক মেয়রগণ হয়তোবা আবারও প্রার্থী হতে পারেন; জনগণের সামনে গিয়ে তারা কী জবাব দেবেন এসবের? প্রস্তুত আছেন তো?