মাসুদ রানা, আরেফিন সুমন ॥
চাঁদপুরে যানজট নিশনে জেলা প্রশাসকের নেওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একদিন সবুজ আরেক দিন লাল রংয়ের সিএনজি ও অটোবাইক চলাচল শুরুর কথা ছিল আজ। এ সিদ্ধান্ত না মেনে উল্টো সিএনজি এবং অটো চালক মালিকরা আজ দিনভর শহরের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ করেছে।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর ) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা মানতে অস্বীকৃতি জানায় মালিক এবং চালকরা। তারই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার চাঁদপুর-রায়পুর সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়কসহ শহরের বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ করে। সড়ক অবরোধ করে। এতে শহরে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে যাত্রী সাধারণরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। অনেকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে পায়ে হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান।
চালকদের অভিযোগ, রংভিত্তিক সিএনজি-অটোবাইক চলাচল করলে তাদের জীবিকা ব্যাহত হবে এবং যাত্রী সেবায়ও সমস্যা তৈরি হবে।
মালিকরা বলছে, এ পদ্ধতিতে সিএনজি, অটো চললে মাসা তারা ১৫ দিন তাদের এসব পরিবহনের ভাড়া পাবে না। ফলে তাদের ব্যাবসা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়বে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো, মহসিন উদ্দিন বলছেন, শহরের যানজট কমাতে তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, চাঁদপুর একটি ছোট্ট শহর। এ শহরের রাস্তাগুলো অনেকটাই শুরু আকারের। এর মধ্যে বৈধ অবৈধ মিলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ হাজার ব্যাটারী চালিত অটো বাইক এবং ৪ হাজার সিএনজি চলে। যা প্রয়োজনের তুলনায় তিন চার গুণ বেশি। হলে শহরের প্রতিটি রাস্তায় সীমাহীন যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, শহরবাসীকে যানজট থেকে মুক্ত করার জন্যই, উন্নয়ন সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল সিএনজি এবং অটোকে লাল – সবুজ দুটি কালারে বিভক্ত করা হয়েছে। সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজকে লাল কালার চলবে, কাল সবুজ কালার চলবে। এ পদ্ধতি অবলম্বনে শহরে প্রতিদিন অর্ধেক পরিমাণ সিএনজি অটো চলাচল করলে শহরে যানজট অনেকটাই কমে আসবে।
চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া বলেন, আমাদের পৌরসভা থেকে প্রায় তিন হাজার ইজি বাইকের (অটো) লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে ২ হাজার ৬ শত শহরে চলাচল করে। এর বাইরে অবৈধভাবে ব্যাটারি চালিত বহু রিক্সা, অটো রিক্সা চলছে। ফলে শহরে যানজট নিত্যদিনের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় সহ প্রতিদিন এক কালার গাড়ি চলাচলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটা বাস্তবায়ন হলে শহরবাসী উপকৃত হবে।
শহরের পালবাজার গেটে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রিজের নিচের সড়ক থেকে পুরাণ বাজার পর্যন্ত বিশাল যানজট। নিচের সড়কে বহু চালক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের দেওয়া নিয়ম তাঁরা মেনে চলতে পারবেন না। সেখানে চালকদের এ বিক্ষোভের সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং চালকদের পক্ষে বক্তব্য দিতে শোনা গেছে।
প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, লাল ও সবুজ রঙের অটোরিকশা এক দিন করে শহরে চলাচল করবে। কিন্তু চালকদের বক্তব্য হচ্ছে, ‘এ নিয়ম কার সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে। আমরা এ নিয়ম মানব না। এক দিন রোজগার বন্ধ থাকলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে।’
দীর্ঘ সময় বিক্ষোভের পর ঘটনাস্থলে আসেন পৌর প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া ও পৌরসভার কর্মচারীরা। তাঁরা চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন।
এদিকে একই সময় চালকেরা বন্ধ করেন চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ সড়ক। সেখানে আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে দুর্ভোগের শিকার হন বহু যাত্রী। অনেক যাত্রী পায়ে হেঁটে লঞ্চঘাট ও বাসস্ট্যান্ডের দিকে রওনা হন।
এ সড়কেও সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা প্রায় ১টা পর্যন্ত যানবাহন আটকা ছিল। সেখানে ট্রাফিক পুলিশের টিআই (অ্যাডমিন) মাহফুজুর রহমান উপস্থিত হন। তিনি পৌর প্রশাসকের বক্তব্য জানান। এতে চালকেরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কিছু সময় পর এ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
চালকদের বক্তব্য, ‘প্রশাসনের এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল। শ্রমিক ও মালিক নেতারা গাড়ি চালায় না। সড়কে থাকতে হয় আমাদের। দিনশেষে মালিক আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার জন্য বসে থাকে। আমাদের সমস্যাগুলো আমাদেরই মোকাবিলা করতে হয়।
![]()