আরেফিন সুমন ॥
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঢাকার জানাজার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশাল গায়েবানা জানাজা। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গায়েবানা জানাজাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে নেমে আসে মানুষের ঢল। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানান। আবেগঘন পরিবেশে জানাজাস্থল যেন পরিণত হয় শোক ও ভালোবাসার মিলনমেলায়। অনেকের চোখে ছিল জল, মুখে ছিল তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও মানবিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণ।
তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জানাজায় অংশগ্রহণ করেন, যা রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সলিম উল্ল্যা সেলিম বলেন, আমাদের এই শোক শক্তিতে পরিণত করতে হবে। আমাদের নেত্রী জীবনে কোনোদিন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন নি। এই দেশের জণগন তাকে আজীবন সমর্থন দিয়ে গিয়েছে। তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুতে যেমন সারা বাংলাদেশ শোকে বিহবল হয়ে পড়েছিলো তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা বিষাদগ্রস্ত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের চাঁদপুর জেলা আমীর মাওলানা বিল্লাল মিঁয়াজি বলেন, বাংলাদেশের অভিভাবক ছিলেন তিনি। আজকে তার দল, সর্বোপরি বাংলাদেশের জনগণ একজন অভিভাবকে হারালেন।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সফি উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ মাস্টার, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা বিল্লাল হোসাইন, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, জেলা গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, জেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কাজী রাসেল, চাঁদপুরের এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত চাঁদপুর-৩ আসনের প্রার্থী সাংবাদিক এ এইচ এম আহসান উল্লাহ, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ, খেলাফত মজলিস শুরা সদস্য বোরহান উদ্দিন ও নাগরিক ঐক্যের আবু তাহের মাস্টার।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মুনীর চৌধুরী ও আলহাজ মোশাররফ হোসেন। গায়েবানা জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা জসিম উদ্দিন। জানাজা শেষে দেশ, জাতি ও মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ অলিউল্লাহ খান।
প্রসঙ্গত: খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে ( তৎকালীন বঙ্গাল প্রদেশে)জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে সেনাকর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন যিনি পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি হন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে হাসিনা সরকারের আমলে জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে জেলে যান। পরবর্তীতে দুই বছর জেলে থাকার পর তিনি বিশেষ নির্বাহী আদেশে মুক্ত হন। বেগম জিয়া কয়েকবার শারীরিক জটিলতার কারনে হাসপাতালে ভর্তি হন। সর্বশেষ রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
![]()