হাজীগঞ্জ ব্যুরো:
হাজীগঞ্জে স্বাধীনতার ঘোষক দাবীদার চাঁন মিয়া নামের এক মুক্তিযোদ্ধার হাত থেকে বাঁচতে চায় এলাকাবাসী। তাঁর মামলা বাণিজ্যে থেকে রেহাই ও ন্যায়-বিচার পেতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্য’সহ এলাকাবাসী।
চাঁন মিয়ার খুঁটির জোর কোথায় ? এমন প্রশ্নে শুক্রবার দুপুরে উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের রাজারগাঁও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, শাহাদাত মেম্বার। বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, চাঁন মিয়া অর্ধশত মামলা পরিচালনা করে শতাধিক পরিবারকে হয়রানি করে আসছেন।
শাহাদাত মেম্বার বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার নাম ভাঙ্গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে চাঁন মিয়া বাদী হয়ে এবং অন্যের মামলার পাওয়ার নিয়ে মামলা পরিচালনা নেশা এবং পেশায় পরিণত করে সাধারণ মানুষদের হয়রানির মাধমে চাঁদাবাজী করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও তাঁর অপকর্ম বন্ধ হয়নি।
তিনি বলেন, রাজারগাঁও গ্রামের মৃত ছিদ্দিক বেপারির ছেলে চাঁনমিয়া নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবী করে ২০১০ সালের ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার হাইকোটের সংশ্লিষ্ট সেকশনে একটি রিট দায়ের করেন। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকাসহ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।
ওই রিট আবেনটি শুনানি না করে নিজেকে প্রশাসনের কাছ থেকে আড়াল করতে তিনি ঢাকা ছাড়েন এবং নিজ গ্রাম রাজারগাঁওয়ে অবস্থান শুরু করেন। এর পর থেকে শুরু তাঁর মামলা বাণিজ্য। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় সামনে রেখে মানুষকে হয়রানি করতে অকারণেই কথায় কথায় মামলা দিয়ে টাকা রোজগারের নতুন কৌশল উদ্ভাবন করেন।
তিনি বলেন, মানুষের সাথে ঝগড়া লাগানো ও মিট করে দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়া তার নেশায় পরিণত হয়েছে। ২০২১ হাজীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক চাঁন মিয়াকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। পরে অদৃশ্য ইশারায় আবারো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে আবারো মামলা বাণিজ্য শুরু করেন।
চাঁন মিয়ার দায়ের করা সব মামলা ও মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে তাঁর নাম প্রত্যাহারের দাবীতে সরকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবী জানিয়ে শাহাদাত মেম্বার কয়েকটি মামলার নম্বর উল্লেখ করে বলেন, ২০১২ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত চাঁন মিয়া বাদী হয়ে করা কয়েকটি মামলার মধ্যে জি আর ৫০/২০১২, ২৪০/২০১২, দায়রা জজ আদালত ১৭২/২০১৫, ৫২০/২০১৫, ১৭১/১১৪ বিবাদী ছামাদ পাটওয়ারী ৪৬/২০১৮, চাঁদপুর জজ কোট বন্টন স্বত্ত্ব-বিবাদী ৮০ জন।
মামলা নং- ১৬৭৩/২০১৯ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল মামলায় বিবাদী নাজিমুদ্দিন গং মামলা নং ১৬৯৪/২০১৯ এ মামলায় বিবাদী করা হয় ১০২জন। মামলা নং ৩১৮.৩০.৪,২০১৮ এ মামলা বিবাদী ১৪ জন। মামলা নং ১৬৯৩/২০১৯ বিবাদী রফিকুল ইসলাম গং। মামলা নং ১৬৯১/১৯ বিবাদী লোকমান বেপারী।
মামলা নং ১৬৯৫/১৯ বিবাদী ফজলুল হক মামলা নং ১৬৯৬/২০১৯ বিবাদী অলি উল্লাহ ১৬৯৬/২০১৯ বিবাদী গফুর গং ১৬৯৬/১৯ বিবাদী কাসেম পাটওয়ারী গং ১৬৯৬/১৯ বিবাদী রাজ্জাক ১৬৯৬/১৯ বিবাদী ওসমান মৌলবি গং ১৬৯৬/১৯বিবাদী নূরুল ইসলাম গং মামলা নং ১৬৯৭/১৯ বিবাদী সেলিম গং মামলা নং ১৬৯৮/১৯ বিবাদী রফিক, ১৬৯৯/২০১৯। এ সকল মামলা প্রতিবাদে ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বীরমুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট আবু তাহের তার বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।
![]()