কেএম নজরুল ইসলাম :
ফরিদগঞ্জের রূপসা উত্তর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের নাকের ডগায় গোপন সমাঝোতার ভিত্তিতে সরকারি সম্পত্তি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। উপজেলার রূপসা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। বিল্ডিং নির্মাণ আইনকে উপেক্ষা করে প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ এ ভবন নির্মাণ কাজ। এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা ৫ তলা বিশিষ্ট এ ভবনটির কারণে প্রাণহানির আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে জানা যায়, রূপসা উত্তর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে মাত্র ৪ থেকে ৫শত ফিট দূরে প্রকাশ্যে রূপসা বাজারে সরকারি সম্পত্তিতে প্রকাশ্যে ভবন নির্মাণ কাজ করছে খোকন দেবনাথ নামের এক ঔষধ ব্যবসায়ী। এর আগে দেবনাথ ফার্মেসি নামে একটি দোকান থাকলেও সরকারি সম্পত্তি দখল করে ওই দোকানের সাথে সংযুক্ত করে ৫ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রূপসা উত্তর ইউনিয়নের ১৪০নং রূপসা মৌজার ১নং খতিয়ানে ৩২৪২ দাগে সরকারি সম্পত্তি রয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন এই খাস সম্পত্তি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য খোকন দেবনাথ ও তার স্ত্রী পৃথকভাবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে দায়িত্বরতরা সরেজমিন পরিদর্শন করে সরকারি সম্পত্তি ছাড়া নিজস্ব মালিকানা সম্পত্তিতে আবেদনকারীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু সরকারের বিধি-নিষেধের তোয়াক্কা না করে খোকন দেবনাথ সরকারি মালিকানাধীন খাস জমি দখল করে ৫ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রশাসনের ভূমিকার বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভবনটি নির্মাণের আগে মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) করা হয়নি। নিশ্চয়ই গোপন সমঝোতা করে ভূমি কার্যালয়ের পাশে সরকারি সম্পত্তিতে এতবড় বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে। তড়িঘড়ি করে স্থাপনার কারণে যেকোনো সময় ভবনটি ধ্বসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি হতে পারে।”
অভিযুক্ত খোকন দেবনাথ বলেন, “এখানে আমি ১ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয়মূলে মালিক হয়েছি। আমার একটি দোকান আগে থেকেই রয়েছে। তারসাথে সংযোজন করে এখন ভবন নির্মাণ করছি।” বহুতল ভবন নির্মাণের নিয়মনীতি লঙ্ঘন হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সয়েল টেস্ট করিনি ঠিক, তবে অভিজ্ঞ রাজমিস্ত্রি দিয়ে কাজ করাচ্ছি”। সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপসা উত্তর ইউনিয়ন (ভূমি) সহকারী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “অবৈধভাবে নিমাণাধীন ভবনের মালিক খোকন দেবনাথকে একাধিকবার নিষেধ করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। সরকারি ভূমিতে নির্মাণাধীন অবকাঠামো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ৩৪নং স্মারক মূলে আবেদন পাঠিয়েছি।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.আর.এম জাহিদ হাসান বুধবার (৬ মে) বলেন, “খোকন দেবনাথ আবেদন করেন যে, সরকারি খাস জমির পাশে তার পূর্বের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে; তা মেরামত করা প্রয়োজন। তার আবদনের প্রেক্ষিতে আমরা মাপ-জরিপ করে খোকন দেবনাথের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে কাজ করার জন্য অনুমতি দিয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ্য করেছি, তিনি সরকারি সম্পত্তি খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন; একই সাথে আইন উপেক্ষা করে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ করছেন তিনি। সরকারি সম্পত্তিতে দখলকৃত স্থানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাসহ সরকারি বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছি সরকারি সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে বিধি-মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।”
![]()