স্টাফ রিপোর্টার ॥
চাঁদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল বিতরণ ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর ) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন খান।
চাঁদপুর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনির সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, আপনাদের আমাদের আসলে উদ্বুদ্ধ করার কিছুই নেই। আপনারা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে থাকেন। আপনাদের তারা সম্মান করে। আমাদের লোকজন বিশেষ স্বার্থ বা ভয়ে স্যার সম্বোধন করেন। কিন্তু বাচ্চাদের অভিভাবক যারা আছেন তারা আপনার কাছে পড়াশোনা না করেও আপনাদের স্যার ডাকেন। সেই আবেগের সম্মান আশা করি আপনারা রাখবেন। আপনারা শুধু আপনাদের দায়িত্ব সম্পর্কে একটু সচেতন হোন তাহলে এই চাঁদপুর জেলার শিক্ষার মান আরো বাড়বে। আমি শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য যে ১৩ দফা ঘোষণা করেছি আমি সেসব খোঁজ নিবো সব ঠিক আছে কিনা। এর বাত্যয় ঘটলে বা কোথাও খবর পেলে আমি ব্যবস্থা নিবো। দু:খের বিষয় হচ্ছে আমাদের শিক্ষা আসলে এখন বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকরা তাদের পেশাকে মহান পেশা হিসেবে ধারন করেন না। এটার মূলে আছে শিক্ষার প্রাইভেট বাণিজ্য। শিক্ষক এখন কোচিংয়ে বিশ্বাসী। শিক্ষা প্রতিষ্টােেন এখন প্রচুর বিনিয়োগ ঘটেছে। স্বাভাবিক ভাবেই যে ব্যক্তি টাকা লগ্নি করছে সে শিক্ষার মান নিয়ে চিন্তা করবেন না। সে সবসময় কিভাবে টাকা উঠে আসবে সে চিন্তা করবে। কারণ তারা হয়তো বেকার কিন্তু অনেক টাকা আছে। এটা একটা ব্যবসা।
তিনিবলেন, আমরা ভালো খারাপ যাই করি না কেন তার প্রভাব কিন্তু এই কচি শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব পড়ছে। আমরা এই একবিংশ শতাব্দীতে এখন আর শিক্ষকদের সম্মান করি না। একসময় শিক্ষকের হাতের লাঠি বা বেত দেখলেই ছাত্ররা ভয় পেত। এখন ছাত্ররা শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব, রুচি ও দায়িত্ববোধ খেয়াল করে। সময় অনেক বদলিয়ে গিয়েছে। তার সাথে সাথে আমাদের শিক্ষকদেরও পরিবর্তন হতে হবে। শিক্ষকরা দায়িত্ববান হলেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান বাড়বে। শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য এক শিক্ষকই যথেষ্ট, আর কারো দরকার নেই।
তিনি আরো বলেন, আপনি দায়িত্ববান কিভাবে হবেন? আপনি নির্দিষ্ট সময়ের আগে স্কুলে আসুন। আপনি ক্লাসের আগে সেই ক্লাসে কি পড়াবেন তার প্রস্তুতি নিয়ে আসুন। কেউ পরীক্ষায় নকল করলে আপনি ব্যবস্থা নিন, আমাদের কেউ লাগবে না। এগুলোই শিক্ষকদের দায়িত্ব। আজ আমরা অনেককেই সাইকেল দিচ্ছি। কারণ সে নিজে সাইকেল চালিয়ে তার স্কুলে আসবে। এতে তার দৈহিক চিত্তের খোরাক জুটবে। সে বিনোদন পাবে। লেখাপড়ার পাশাপাশি একটা ছাত্রের মানসিক শক্তি খুব প্রয়োজন।
আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম. জিন্নাহ, উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশলী রাহাত আমিন পাটোয়ারী, চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার মো: বাহার মিয়া। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন উপজেলার স্কুলের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
পরে সভা শেষে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও সভার সভাপতি সাখাওয়াত জামিল সৈকতের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন সভায় বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে ১২৫ টি সাইকেল বিতরণ করা হয়।
![]()