আরেফিন সুমন ॥
সোমবার (২৩ জুন) চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠিত এ সভার সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন।
এ সময় তিনি বলেন, একটা জেলায় আমাদের কোনো বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাব নেই এটা ভাবা যায় না। আপনারা জেলায় কোনো কেমিস্টের সাথে যোগাযোগ করেন। আমি চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ প্রধানের সাথে এ নিয়ে আলাপ করবো। আমি বিগত কোরবানী ঈদ সংক্রান্ত একটা বিষয় বলবো। এখানে অনেক প্রসিদ্ধ গরুর হাট। যেমন সফরমালী গরুর হাট রয়েছে। এ হাট সপ্তাহে একদিন হাট বসে। হাটের কোনো ইজারা দেয়া হয় না। কোনো হাট বা বাজার কারো নামে হতে পারে না। এটা আমি বলছি না। সরকারী ভাবেই এটা বলা আছে। গরুর হাসিল আছে। এই টাকা তো সরকারের পাওনা। এটা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের ফান্ডে যাওয়া অন্যায়। আমরা সেই গরুর হাটের মালিককে বলেছি, বুঝিয়েছি। তিনি বুঝেছেন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে এজন্য জানিয়ে রাখলাম কারণ কেউ কেউ বলতে পারেন যে আমরা অন্যায় ভাবে এ হাট বন্ধ করেছি। আগামীতে এ হাট বন্ধ রাখার জন্য আমরা নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি।
জেলেদের চাল বিতরণ নিয়ে জেলা মৎস অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি শুধু খেয়াল রাখবেন যে সব জায়গায় সব জেলেরা চাল পাচ্ছে কিনা। আর সঠিক জেলে তালিকা নিয়ে কাজ করবেন। আমি ফোনে অনেক স্থান থেকে অভিযোগ পাচ্ছি। তারা জেলে হয়েও চাল পাচ্ছে না। এখানে অনিয়ম কারা করছেন তা খতিয়ে দেখতে হবে। আপনি সব জেলেদের একটি সঠিক তালিকা তৈরি করেন। আগামী অক্টোবরের অভিযানের আগে যেন আমি নির্দিষ্ট করে বলতে পারি। এটা আপনার দায়িত্ব।
পল্লী বিদ্যুতের উদেশ্য জেলা প্রশাসক বলেন, আপনারা বলেন বিদ্যুতের কোন সমস্যা নেই। শুধুমাত্র ঝড় বৃষ্টি হলে কিছুটা বিঘ্নিত হয়। এছাড়া সব কিছু স্বাভাবিক ভাবে চলমান আছে। কিন্তু আমি এমন উপজেলা থেকে খবর পেয়েছি যেখানে স্বাভাবিক সময়েও বিদ্যুৎ থাকে না। আপনারা দেখেন সমস্যাটা কোথায় ? চাহিদা থাকলে আপনারা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেন। আমি ফরিদগঞ্জ গিয়েছিলাম। সেখানে অতিবৃষ্টির ফলে অনেক ফসলি জমি তলিয়ে গিয়েছিল। কৃষকদের সাথে তারা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শরপান্ন হয়েছে। এ অধিদপ্তরের প্রধান আপনাদের জানিয়েছে। আপনারা বলেছেন মেশিনের ক্ষমতা অনেক কম হওয়াতে দেরী হচ্ছে। আসলে এসব কথা কিন্তু যারা জনগণ তারা কিন্তু বোঝে না। তাদের বলেন এবং আপনাদের মেশিনের সক্ষমতা বাড়ান। এ ব্যপারে আমি চাই আপনারা মেঘনা ধনাগোদা পওর বিভাগ প্রয়োজনে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে সমন্বয় করে কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, আগামীতে সব অধিদপ্তরকে আমি বলবো আপনারা সভার আগে আপনাদের কাজের অগ্রগতি বা বাধা আমাকে আগেই জানাবেন। আপনারা বলেন কাজ হচ্ছে অথচ সংশ্লিষ্ট অন্য অধিদপ্তর বলেন ভিন্ন কথা। এটা যাতে আগামীতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সব দপ্তরকে সমন্বয় করেই কাজ করতে হবে। আর সাংবাদিকদের আমি বলবো আপনারা আমার বা যে কোনো দপ্তরের কাজের সমালোচনা করবেন। কারন আপনাদের মাধ্যমেই মানুষ জানতে পারে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এরশাদ উদ্দিন, চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো: নুর আলম দীন, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ.কে. এম. মাহবুবুর রহমান, চাঁদপুর সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ড. মো: ইকবালুর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ওয়াসিউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আহসান কবির, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসান ভুঁঞা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা মোহাম্মদ ফয়সাল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের, জেল সুপার মো: জয়নাল আবেদীন ভুঞা, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মাবরুর ইসলাম চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: মিজানুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন পাটওয়ারীসহ বিভিন্ন উপজেলার ইউএনও এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
![]()