৫৬ বছরের প্রথা ভেঙ্গে সেই আসনে এবার ভোট দিলেন নারীরা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
৫৬ বছরের প্রথা ভেঙ্গে চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোটাররা এবার ভোট দিলেন। এর আগে ১৯৭০ সাল থেকে জৈনপুরের পীরের নিষেধ মেনে তারা ভোট দিতেন না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় থেকে ওই ইউনিয়নের নারী-পুরুষ ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন।
জানা গেছে, জানা গেছে, ১৯৭০ সাল থেকে জৈনপুরের পীরের অনুরোধ মেনে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারীরা ভোটের সময়েই ভোট দিতে যান না। এবার বিশেষ উদ্যোগে জেলা প্রশাসন ওই ইউনিয়নের নারীরা যেন ভোট দিতে কেন্দ্রে যান, সে জন্য মোট ৮টি কেন্দ্রেই নারী ভোটের জন্য গোপনীয়তা রক্ষা করে ২০টি বুথ তৈরি করেছেন। ওই বুথগুলোর জন্য সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নারীদের নিয়োগ করা হয়। এই পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে আজকে ওই ইউনিয়নে নারী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি চোখে পড়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ২৯৯ জন নারী ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করছেন।
দক্ষিণ চর মান্দারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসা ৯০ বছর বয়সের মহিফুলের নেছা বলেন, এই প্রথম জীবনে ভোট দিলাম। এছাড়া বেশ কজন নারী জানান, তারা প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন। ভোট দিতে পেরে তারা খুব খুশি।
চর মান্দারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার আব্দুস সামাদ বলেন, নারীদের জন্যে সব কর্মকর্তাই নারী রাখা হয়েছে। ফলে নারীরা দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে ভোট দিচ্ছেন।
গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার এ কে এম লোকমান হাকিম বলেন, প্রথমবারের মতো নারীরা ভোট দিতে এসেছে। দীর্ঘ লাইন। তবে ভোটদানের পদ্ধতি না জানায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ নির্বাচনে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেন, নারীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে আমি খুশি।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ব্যাপক উদ্যোগ নেয়ার পর আজ নারীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে লক্ষনীয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ আসনে ৩৬ শতাংশ।
এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৩১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৬০৪ জন। মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ২৬ জন। হিজড়া ১ জন। কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৮ টি। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বি করছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজী (দাঁড়িপাল্লা) এবং বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী সতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হান্নান (চিংড়ি), ইসলামী আন্দোলনের মকবুল হোসাইন (হাতপাখা), ইসলামী ফ্রন্টের আব্দুল মালেক (মোমবাতি), জাতীয় পার্টির মাহমুদ আলম (লাঙ্গল), গণফোরামের মনির চৌধুরী (উদীয়মান সূর্য), স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন (ঘুরি)।

Loading

শেয়ার করুন: