প্রতিনিধি
চাঁদপুরের প্রধান সমস্যা এখন যানজট । শহরের তুলনায় অতিরিক্ত বৈধ-অবৈধ যানবাহন,ট্রাফিক স্বল্পতাসহ নানা কারণে অধিকাংশ সময় শহরের মানুষ যানজটের চরম ভোগান্তিতে রয়েছে শহরবাসী। বিশেষ করে স্কুল,কলেজ ও অফিস সময়ে শহর জুড়ে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। এই যানজটের কারণে বেশি সমস্যায় পড়েন ঢাকামুখি লঞ্চযাত্রীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাসপাতালে আসা রোগীরা। তা সমাধানে নানা ধরনের কর্মসূচী নিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে সভা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও এই যানজট নিরসন করা যাচ্ছেনা।
চাঁদপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে “শহরের যানজট পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য করণীয় শীর্ষক”সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা,পৌরকর্তৃপক্ষ ও সূধীজনদের নিয়ে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক মো.এরশাদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে যানজট নিরসন নিয়ে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রাণী চাকমা।
সেমিনারে অংশ নেয়া অংশীজনরা জানান,শহরের যানজট নিরসনের জন্য এভাবে আলোচনায় না থেকে ট্রাফিক ব্যবস্থা বাড়ানোসহ যেকোনো ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করে তা দ্রুত বাস্তবায়ন কররেই যানজট থেকে শহরকে মুক্ত করা যাবে।
সেই সাথে শহরের বাসস্ট্যান্ড ও কালীবাড়ি রেলস্টেশন শহর থেকে সরিয়ে নেয়া এবং শহরের ডাকাতিয়া নদীর ইচলী এলাকায় একটি ব্রীজ নির্মাণ করার প্রস্তাবে সবাই একমত পোষন করেন। এতে করে শহরের প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভাগ যানজট কমে আসবে সেমিনারে তুলে ধরা হয়।
এই যানজটের জন্য চিহ্নিত করা হয় শহরের বাবুরহাট,ওয়ারলেস মোড়,ডিসি অফিস এলাকা,বাসস্ট্যান্ড,ইলিশ চত্তর,চিত্রলেখা মোড়,মিশন রোড,ছায়াবাণী মোড়,বায়তুল আমিন চত্তর,কালীবাড়ি মোড়,পালবাজার ও আশেপাশের এলাকাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় এসব এলাকা যানজট মুক্ত করা যাচ্ছেনা।
এর প্রধান কারণ গুলোর মধ্যে অবৈধ যানবাহন,অতিরিক্ত সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা এবং ফুটপাতে বসা ভ্যানচালক ও হকারদের দখলে থাকা।
এ সময় জেলা প্রশাসন কর্তৃক ১১ সদস্য বিশিস্ট যানজট নিরসন কমিটি যানজট নিরসনে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশমালাসহ নানা ধরনের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
স্বল্পমেয়াদি সুপারিশসমূহ হচ্ছে-
সড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ নিশ্চিতকরণ। মালবাহী গাড়ির লোড-আনলোড রাত ১০ টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত সীমিতকরণ। পৌরসভার অটো এবং অটো চালকের যথাক্রমে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার এবং চালকের নির্দিষ্ট ড্রেস নিশ্চিতকরণ। লঞ্চঘাট থেকে কোড়ালিয়া (মাতব্বর বাড়ির সামনে) হয়ে মোল্লা বাড়ি রোড হয়ে বাস স্ট্যান্ড উত্তর পশ্চিম পাশ পর্যন্ত হয়ে স্বর্ণখোলা রোড দিয়ে কুমিল্লা রোড পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ করা। সড়কে যথাযথ ট্রাফিক সাইন নিশ্চিতকরণ। রাস্তার বাম পাশে নিরাপদ স্থানে যাত্রী উঠানামা নিশ্চিতকরণ।
দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশসমূহ হচ্ছে-
লঞ্চঘাট থেকে উত্তর দিক (নদীর পাড়) হয়ে ৯ নং ওয়ার্ডের শেষ সীমানা (বেপারী বাড়ি)’র পূর্ব দিক দিয়ে বিলের মাঝ দিয়ে বিশনদী রোডের সাথে সংযোগকরণ (২.৫ কি.মি.)। বেপারীবাড়ী বিশনদী রোড সাতার বাদশা (মিজিবাড়ি) জিটি রোড তেঁতুলতলা
তেঁতুলতলা কাসিম বাজার (বিটি রোড) কাঠের পুল বাবুরহাট সড়ক সংস্কার পূর্বক সম্প্রসারণ।তেঁতুলতলা সেনের দিঘীর পাড় বাক প্রতিবন্ধী স্কুল মটখোলা সড়ক সংস্কার পূর্বক সম্প্রসারণ।
তেঁতুলতলা সেনের দিঘীর পাড় কুমিল্লা সড়ক সংস্কার পূর্বক সম্প্রসারণ। কালিবাড়ী থেকে ফরিদগঞ্জ (রেললাইনের দক্ষিণ পাশ দিয়ে) ৩ কি.মি. নতুন রাস্তা তৈরি (পৌরসভার প্রকল্প)।
ওয়ান মিনিট থেকে প্রেসক্লাব সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ। ইচলী ব্রীজ নির্মাণ।
সেমিনারে উপস্থিত আরও যারা বিভিন্ন প্রস্তাবনা রাখেন তারা হলেন, চাঁদপুর পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান,জেলা পরিষদ প্রশাসক সলিমুল্লা সেলিম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো লুৎফর রহমান, চাঁদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী
হিমাদ্রি খীসা,চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম জামিউল হিকমা, চাঁদপুর সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাঃ ইউনুস আলী,বিআরটিএর উপপরিচালক আব্দুল্লাহ মামুন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল খায়রুল কবির,জেলা বিএনপি ও বাস মালিক সমিতি নেতা ফেরদৌস আলম বাবু, আক্তার হোসেন মাঝি,অধ্যাপক মোশারফ হোসেন,সাংবাদিক আলম পলাশ,ফারুক আহমেদ,ক্লীন চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাড.নুরুল আমিন খান,নিরাপদ সড়কের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ,সিএনজি মালিক সমিতি নেতা লিটন মিয়া প্রমুখ।
![]()