জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ ফ্রিডম পার্টির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ

আনোয়ারুল হক:

বিতর্কিত ফ্রিডম পার্টির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চাঁদপুরের মুক্তিযোদ্ধারা।

শনিবার দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধকালীন কমান্ডারবৃন্দ’ ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শহীদুল আলম রব। তিনি জানান, এসব ঘটনায় ১৯৭৪ সাল থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণের ঘটনায় মামলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিতর্কিত কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। বিশেষ করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট প্রদান, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, নিজের নামের আগে লেফটেন্যান্ট ব্যবহার নিয়ে প্রতিবাদ জানান মুক্তিযোদ্ধারা। তিনি ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির কৃষি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তীতে ফ্রিডম পার্টি যোগদান করেন।

এছাড়া ২০১৭ সালের পর থেকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এর দায়িত্বে না থেকে নিয়মিত সংসদে যাওয়া ও কমান্ডার পরিচয়ে নানা ধরনের কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় নিন্দা জানান মুক্তিযোদ্ধারা।

একই সাথে তার ছোট ভাই মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ কুদ্দুছও ফ্রিডম পার্টির এর সাথে জড়িত থাকা এবং নানা ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধারা নিন্দা জানান।

তারা এ ঘটনায় অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ এর বিতর্কিত কর্মকান্ড সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে যুদ্ধকালীন কমান্ডার মো. মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী বীর প্রতীক বলেন, আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। অনেক ধৈর্য্য ধরেছি। তাই, অনেক দেরীতে হলেও এখন আমরা সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হয়েছি। আমরা প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আয়শা বেগম নামের এক নারী। তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলায়।

তিনি বলেন, আমি সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। আমাকে মুক্তিযোদ্ধা সাটিফিকেট দেয়ার কথা বলেন ওয়াদুদ সাহেব ২ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু আদৌ সেই সাটিফিকেট হাতে পাইনি। আমি এখন সেই টাকা দাবি করছি। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে, শুধু টালবাহানা করেন।

মায়া রানী নামের আরেক নারী অভিযোগ করেন, তার বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলায়। তার সাড়ে ১৩ একর সম্পত্তি দখল করে দুটি ইট-ভাটার ব্যবসা করছে এম এ ওয়াদুদ ও এম এ কুদ্দুছ। হুমকি ও ভয়-ভীতির কারণে তিনি এখন পাশ্ববর্তী কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এসব অভিযোগ মিথ্যা।

এম এ ওয়াদুদ বলেন, আমি কখনো ফ্রিডম পার্টির সাথে জড়িত ছিলাম না। আমার পরিবারের কেউ কখনো এই পার্টি করেনি। এছাড়া আমি কারো কাছ থেকে কখনো আর্থিক সুবিধা নেইনি কিংবা কাউকে অর্থের বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দেইনি। আমার বিরুদ্ধে ‘লেফটেন্যান্ট’ ব্যবহারের যেই অভিযোগ করা হয়েছে, তা আমি শুধুমাত্র বাহিনীর কাছে দিব। এছাড়া এর ব্যাখ্যা আমি অন্য কারো কাছে দিবো না। জমি সংক্রান্ত যে বিষয়টি বলা হচ্ছে, তা আমরা ক্রয় সূত্রে মালিক। আমরা কারো জমি দখল করেনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধকালীন কমান্ডার মো:মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী বীর বিক্রম, বিএলএফ কমান্ডার হানিফ পাটোয়ারী, মিঞা মো: জাহাঙ্গীর আলম, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্রধর, সাবেক সভাপতি ইকরাম চৌধুরী, কাজী শাহাদাত, বি এম হান্নান, শরীফ চৌধুরী,সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মিলন, রহিম বাদশাসহ চাঁদপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকসহ দুইশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

Loading

শেয়ার করুন: