মেঘনা বার্তা ডেস্ক :
চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ মুনিরা ভবনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।
এ সময় তিনি বলেন, আপনারা সবাই বিএনপিকে ভালোবাসেন বিএনপি ও ধানের শীষকে ভালোবাসেন বলেই আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমি আপনাদের সহযোগিতা করছি। তবে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে এবং জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, ছাত্রদলের কেউ চেয়ারম্যান বা মেম্বার পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে আগে নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সততা ও জনসেবার মানসিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের মধ্যে একদিকে হাইব্রিড, অন্যদিকে দলের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী রয়েছেন। যারা সত্যিকার অর্থে দলকে ভালোবাসেন এবং জনগণের পাশে থাকেন, তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। যারা সালিশ কিংবা মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে জড়িয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করবেন না, তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। অপরাধ ছোট হোক কিংবা বড়—সব অপরাধই অপরাধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, যারা জনগণের দোরগোড়ায় যেতে পারবেন, জনগণের পাশে দাঁড়াবেন এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, আমরা একমাত্র তাদেরই সমর্থন করব। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একজন যোগ্য চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বার নির্বাচিত করতে হবে।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মসজিদের ইমামের মতো দায়িত্বশীল ও আদর্শবান হতে হবে। সরকার ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেবে। আর জনপ্রতিনিধিরা বসে বসে খাবেন কিংবা বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করবেন—সেই দিন শেষ। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলের কথা ভুলে যান। এটা তারেক রহমানের বাংলাদেশ। আমরা কাউকে লজ্জা দিতে চাই না। এখনো সময় আছে, নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিন—আপনারা নির্বাচন করবেন কি না এবং সেই দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা আপনাদের আছে কি না।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। তাই দলীয় সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দল যাকে মনোনীত করবে, তার পক্ষেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী পরিচালনার বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সলিম উল্যা সেলিম, সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, পৌর বিএনপি সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, চাঁদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মানিকুর রহমান মানিকসহ চাঁদপুর সদর উপজেলাধীন ১৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থী এবং বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।