স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান বলেছেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তের মান উন্নয়ন, পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি এবং আদালত-পুলিশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজন। দ্রুত, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্তই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ভিত্তি। একই সঙ্গে জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশকে আরও সেবাবান্ধব, দায়িত্বশীল ও পেশাদার হতে হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) বিকেলে জেলা জজ আদালত ভবনের সম্মেলন কক্ষে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চাঁদপুরের আয়োজনে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কনফারেন্সে বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ, নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেল সুপার, কোর্ট ইন্সপেক্টর, কোর্ট পুলিশ, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, পুলিশ হাসপাতালের প্রতিনিধি, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (নারী ও শিশু) এবং জেলার সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ (ওসি)।
পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকুর চাকমা সভায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি আলোচ্য বিভিন্ন বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল, পেশাদার ও জনবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, তদন্তের গুণগত মান বৃদ্ধি, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে পুলিশকে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভার শুরুতে পূর্ববর্তী মাসের পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। পরবর্তীতে আদালত ও তদন্ত সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার, মামলার তদন্তের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং বিচারিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিশেষভাবে হত্যা ও ধর্ষণ মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাগুলোতে আইন অনুযায়ী প্রণীত বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়, যাতে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি না থাকে এবং অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেতে না পারে।
মৎস্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রান্তিক জেলেদের পরিবর্তে অবৈধ মাছ আহরণ, মজুদ, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত মূল সুবিধাভোগী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিচার বিভাগের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং জনগণের জন্য সহজ, দ্রুত ও কার্যকর বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
![]()