“প্রকৃতপক্ষে আমরা যা খাবার খাই তা ঝুকিপূর্ণ  ও ক্ষতিকর”- আ.ন. ম. নাজিম উদ্দীন

আরেফিন সুমন:
বাংলাদেশ খাদ্য মন্ত্রনালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আয়োজনে জেলা পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক জনসচেতনামূলক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৪ মে) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্নসচিব) আ. ন. ম. নাজিম উদ্দীন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেখুন আমরা সবাই একটি কথা মাঝে মাঝে ভুলে যাই। আমরা নিরাপদ বা ভালো খাবার আছে বলে কিন্তু আমরা বেশি খেয়ে ফেলি। আসলে খাবারের মানের পাশাপাশি আমাদের স্বাস্থ্যের মানের কথাও ভাবতে হবে। ধরুন আপনার দেহে কোন রোগ নেই। কিন্তু অতিরিক্ত খাবার ফলে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আসলে আমাদের ঘরে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সবাই সবার ঘর আগে গোছাতে হবে। তাহলে আমরা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবো।
তিনি বলেন, এই যে আমরা কিছু খাদ্যের তালিকা বা নিরাপদ রাখার উপায় সম্বলিত একটা ফাইল আপনাদের হাতে দিয়েছি। এগুলো আপনার চারপাশে বসবাস করা মানুষকে দেখাবেন, বোঝাবেন। এবং আমরা আরো বেশ কিছু প্রচার প্রচারণা সহায়ক কিছু টেম্পলেট তৈরি করছি যা অবশ্যই আপনাদের সামনে আসবে। আসলে উন্নত বিশ্বের অনেক দেশের কাছে আমরা হচ্ছি অনেকটা “টেস্ট কেইস” এর মত। কোন রাসায়নিক বস্তু ভালো হবে কিনা তা আগে তারা আবিষ্কার করে আমাদের উপর পরীক্ষা করে। যদি আমরা বেঁচে থাকতে পারি তাহলে সেটা বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদনের অনুমতি পেয়ে থাকে। এই যে দেখুন আমি বাজার থেকে পাউরুটি নরম দেখে কিনি। অথচ আজ আমি নিজে এই ডকুমেন্টারি থেকে জানলাম সেখানে পটাশিয়াম ব্রোমাইড ব্যবহার করা হয়। কারন এতে সেই রুটি নরম থাকে। আমি আপনি প্রতিনিয়ত কত ক্ষতিকর বস্তু শরীরে না জেনে প্রবেশ করাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, এটা আসলে কঠিন যুদ্ধ। পৃথিবীর কোন দেশে বিটুমিনের অনুমোদন দেয়া হয় না। একমাত্র বাংলাদেশেই এর ব্যবহার বৈধ করা হয়েছে। দেখুন বেগুনের ভিতরে যে পোকা আসে যে বিষটা দিলে পোকা আর আসবে না তাই বেগুনের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমাদের মৎস অধিদপ্তরের অফিসার এখানে আছেন। তেলাপিয়া মাছের জেনেটিক যে গ্রোথ হয় তার চেয়ে ঢের গুন বেশি হয় তার ওজন। উনি জানেন কিভাবে হয়। কিন্তু কি করবেন? প্রকৃতপক্ষে আমরা যা খাবার খাই তা ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর। আমাদের এটা থেকে বের হতে হবে। যারা ব্যবহার করবে শুধু তাদের ভারি অংকের জরিমানা করা নয়, ব্যবহার বাদ দেয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ধরেন ক্যান্টনমেন্টের আইন সম্পর্কে সবাই জানেন কারন তারা আইন করেই দিয়েছে যে আপনার গাড়ি ঢোকা মাত্রই আপনার পরিচয়, গাড়ির গতি এমনকি হেডলাইটের তীব্রতাও চেক করা হবে। যদি না করেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। খেয়াল করবেন প্রত্যেক চালক কিংবা যাত্রী এ সম্বন্ধে এখন সচেতন। আপনারা সচেতন হউন, কেউ আপনাদের ভুল গাইডেন্স করতে পারবে না।
জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো: আরিফুল হাসানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন মো: আব্দুর রকিব (পিপিএম), জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শংকর চন্দ্র অধিকারী, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক মো: বেলাল হোসেন খান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার সুমাইয়া ফারজানা হক, সহকারি কমিশনার রোকেয়া খাতুন, সহকারি কমিশনার নিলুফা ইয়াছমিন মিতু, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: মোশারফ হোসেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি রহিম বাদশা, সেক্রেটারি কাদের পলাশ, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জোতির্ময় ভৌমিক, জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো: নজরুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারি নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার ও প্রোগ্রামার মোফাজ্জল হোসেন, পরিসংখ্যান অফিসের উপ পরিচালক মোহাম্মদ আজাদুর রহমান, চাঁদপুর ক্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: মুজিবুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: মিজানুর রহমান, জেলা তথ্য অফিসার তপন বেপারীসহ বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও হোটেলের মালিকগণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মশালা প্রকল্পের সিনিয়র কনসালটেন্ট মো: আইউব হোসেন অতিথিদের একটি ডকুমেন্টারি পেশ করেন।

Loading

শেয়ার করুন: