ফরিদগঞ্জে ডাকািতিয়া নদীর কচুরি স্থায়ী অপসারনের দাবি

মো.আ.কাদির:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দৈর্ঘের ডাকাতিয়া নদীতে দীর্ঘ দিনে জ্যাম লেগে থাকা কচুরিপানা পচে গলে মরছে মাছ, দুষিত হচ্ছে নদীর পানি।

মৎস্যচাষী ও বিপুল সংখ্যক গনমানুষের স্বার্থে এই কচুরিপাানা পরিষ্কারের দাবিতে স্থায়ী প্রকল্প গ্রহন করার জন্য রোববার সকাল ১১ টায় উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড: জাহিদুল ইসলাম রোমান ও মেয়র মাহফুজুল হকের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেন।

ফরিদগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীর মাছ,পানি ও পরিবেশ রক্ষা কল্পে গঠিত সংগ্রাম কমিটির আয়োজনে কর্মসূচীতে মৎস্যচাষী ও এলাকার ভুক্তভোগীরা অংশ গ্রহণ করেছেন।

ওই দাবিতে উপজেলার সদরে ওনূআ স্মৃতি সংসদ পাঠাগার চত্বরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গনমানুষের ওই দাবির প্রতি একাত্বতা প্রকাশ করে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেয়র মাহফুজুল হক বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের (মার্কবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড আলমগীর হোসেন দুলাল ।

সংগ্রাম কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নুর স্বাক্ষরিত স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চাঁদপুর- ফরিদগঞ্জ রায়পুর উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর প্রায় ৮০ ভাগই এক সময়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলার আর্শীবাদ হলেও তা এখন জ্যাম লেগে থাকা কচুরিপানার জন্য অভিশাপে পরিনত হয়েছে।

স্বারকলিপিতে সূত্রে জানাযায় , চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের বাঁধের কারনে প্রাকৃতিক জোয়ার ভাটা না থাকায় নদীতে প্রতি বছর কচুরিপানা জ্যাম লেগে থাকে। এক পর্যায়ে কচুরিপানা পচে গলে মাছ মরে যাচ্ছে, দুষণ হয় পানি ও পরিবেশের। ফলে নদীর দুই তীরে থাকা দিন মজুর হাজার হাজার মৎস্যজীবি কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তখন অর্ধাহারে অনাহারে মৎজীবিদের দিনানিপাত করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ এই নদীটিতে ৩০/৩২ প্রজাতির মাছ প্রাকৃতিক ভাবে উৎপন্ন হতো।

স্বারকলিপিতে আরো উল্লেথ করা হয়েছে যে,প্রতি বছরই মৎস্যজীবিরা স্থানীয় জনগনের সহযোগিতায় স্বেচ্ছা শ্রমের বিনিময়ে ডাকাতিয়া নদীর কচুরিপানা সাধ্যনুযায়ী পরিষ্কারের চেষ্টা করে। কিন্তু পাশবতী হাইমচর উপজেলায় ‘ হাজীমারা স্লুইচগেইট বন্ধ থাকলে তাও সম্ভব হয়না।কারণ স্লুইচ গেইট খোলা না থাকলে তখন নদীতে স্রোত থাকে না। আর স্রোত না থাকলে কচুরিপানা ওই গেইটের কাছে নেয়া যায় না।বাস্তবে এই সমস্য সমাধান হতে পারে উপজেলা পরিষদ ও পৌর সভার যৌথ উদ্যেগে একটি স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করে নদীর দুই তীরে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করার জন্য জোড়ালো দাবী জানানো হয়েছে।

Loading

শেয়ার করুন: