নিজস্ব প্রতিনিধি :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে রুহুল আমিন নামে এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আলোচিত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম রবিন ওরফে রবিনকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিনগত রাতে র্যাব-১১ কুমিল্লার একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে এতথ্য নিশ্চিত করেন ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ আলম।
গ্রেপ্তার আসামি রবিন পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার চান্দিরগাঁও এলাকার হাজী শামসুন নুর পাটোয়ারীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যা ও ডাকাতিসহ ১৪টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে গত ১১ নভেম্বর দিনগত রাত প্রায় ১০টার দিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর এলাকার সমিতির পোলের গোড়ায় বেঙ্গল গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি রুহুল আমিনের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ডাকাত রবিন ও তার সহযোগী। তারা রুহুল আমিনের কাছ থেকে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে রুহুল আমিন ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করে। চিৎকারে বিব্রত হয়ে ডাকাত রবিনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন রুহুল আমিন। এরপর তারা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে আত্মগোপনে থাকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত রুহুল আমিনের বাবা ঘটনার পরদিন অঙ্গাতনামা আসামি করে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
রুহুল আমিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার পর ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী একাধিক অভিযান পরিচালনা করেন। ডাকাত সর্দার রবিন ও তার সহযোগী খুবই ধুরন্ধর হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গুলি করে হত্যার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক হারে প্রকাশ হয়। আলোচিত ঘটনাটির রহস্য উন্মোচন ও জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি করে। র্যাব আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রবিনের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ডাকাত ও হত্যা মামলার আসামি রবিন র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, র্যাব রবিনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। বিকেলে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। বুধবার তাকে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হবে।
![]()