হাসান মাহমুদ ॥
হাজীগঞ্জ বাজার পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন। শনিবার (২ আগস্ট) তিনি বাজার পরিদর্শন করে সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলেন। ফুটপাত ও সড়ক অবৈধভাবে দখলে রাখা হকার উচ্ছেদের একদিন পর তিনি বাজার পরিদর্শন করেন। এসময় পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব ও ৩৩ ডিভিশনের অধীনস্থ ৪৪ পদাতিক ব্রিগেডের ২১ বীরের চাঁদপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ মাঠে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, এটা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ জনগণেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। রাস্তা হকারদের ব্যবসার জন্য নয়। রাস্তা হলো যান চলাচল ও জনগণের চলাচলের জন্য। তাই রাস্তার ফুটপাত দখল করে কখনোই ব্যবসা করা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “হাজীগঞ্জ বাজার চাঁদপুর জেলার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র। অথচ প্রতিনিয়ত যানজট এবং ফুটপাত দখল করে হকারদের অস্থায়ী দোকানপাটের কারণে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর মনোভাব নিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসক জানান, যানজট নিরসনে এবং হকার উচ্ছেদে সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং পৌরসভা একযোগে কাজ করছে। তিনি বাজারের ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ দোকানদারিত্ব যথাস্থানে সীমাবদ্ধ রেখে সরকারি নীতিমালা মেনে চলার আহ্বান জানান।
সভায় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা যদি সকলে মিলে কাজ করি, তাহলেই সম্ভব হবে একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ ও উন্নত হাজীগঞ্জ গড়ে তোলা। সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।” এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা, জানসাধারণরা মিলে একটি সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন করতে পারে। যারা হকারদের প্রধান সড়কের ফুটপাতে যেনো না বসে, কোন দোকানদার যেনো ফুটপাত দখল না করে সেজন্য সচেতন করতে পারে।
তিনি বলেন, হকারদের পুনর্বাসন সরকারের দায়িত্ব না। যাদের টাকা আছে, তারা ব্যবসা করবে। যাদের টাকা নেই তারা অন্যান্য কাজ করবে। সবাই যে ব্যবসা করবে এমনতো নয়।
তিনি বলেন, আমি অনেক কথাই শুনি। অনেকেই হকার পুনর্বাসনের কথা বলছেন, আমরা তো বিশাল হকার্স মার্কেট দিয়ে হকারদের পুনর্বাসন করেছিলাম। তার পরেও এতো হকার আসলো কোথা থেকে। আমরা পুনর্বাসন করবো, কয়েক দিন পর আপনারা দোকান বিক্রয় করে রাস্তায় চলে আসবেন। এটাতো হতে পারেনা।
তিনি বলেন, হকার পুনর্বাসন করার মতো সরকারের হাতে এতো জায়গা নেই। সব জায়গাতে তো হকার বসানো যায়না। আমরা চাইলে একটা জায়গায় হকার বসাতে পারিনা। তবে চাঁদপুর কুমিল্লা-আঞ্চলিক মহসড়কের হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় কোন ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা যাবেনা। এটাই সিদ্ধান্ত।
সর্বশেষ তিনি গত কয়েক দিন ধরে ফুটপাত দখল মুক্ত করতে প্রশাসন, যৌথবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, হাজীগঞ্জ বাজার চাঁদপুরের অন্যতম ব্যবসায়ীক প্রাণকেন্দ্র। হকার উচ্ছেদের পর রাস্তার দু’পাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। হাজীগঞ্জ হবে একটি দৃষ্টি নন্দন শহর।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জাবের হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকুর চাকমা এবং হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হাছান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
![]()