জসিম উদ্দিন :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাচনমেঘ গ্রামের শতবর্ষী বৃদ্ধা ছালেহা বেগমের জীবনের শেষ দিনগুলো কাটছে চরম অবহেলা, অভাব-অনটন আর নিঃসঙ্গতায়। বার্ধক্যের কারণে ন্যুয়ে পড়া এই নারীর ভাগ্যে জোটে না নিয়মিত খাবার, নেই মাথা গোঁজার মতো সামান্য আশ্রয়ও। আপনজন থেকেও নেই, ফলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোমতে খেয়ে না-খেয়ে দিন পার করছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতা, তীব্র দুশ্চিন্তা আর ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এবং প্রিয়জন হারানোর স্মৃতি ও শারীরিক যন্ত্রণায় কাটে তার প্রতিটি মুহূর্ত।
বৃদ্ধা ছালেহা বেগম বলেন, “ ত্রিশ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। তারপর থেকে আমাকে দেখার কেউ নেই। দুই ছেলে ও চার মেয়ে থাকলেও তারা খোঁজ নেয় না। এখন আর শরীর আর চলে না। পাড়া-প্রতিবেশীরা খাবার দিলে খাই, না দিলে না খেয়েই থাকতে হয়।”
সরকারি অনুদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অনেক আগে বয়স্ক ভাতা পেতেন। কিন্তু ভাতার বইটি হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো সাহায্য পাননি।
জানা যায়, উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের সাচনমেঘ গ্রামের সরদার বাড়ির মৃত ওয়াব আলী সরদারের স্ত্রী ছালেহা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একা হয়ে পড়া এই বৃদ্ধার ঠাঁই হয়েছে একটি জীর্ণশীর্ণ খুপরি ঘরে। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে ।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় ছালেহা বেগম অন্যের বাড়িতে গিয়ে চেয়ে-চিন্তে খেতেন। কিন্তুবয়সের কারণে এখন আর যেতে পারেন না। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনতে পারেন না তিনি।
প্রতিবেশী ফয়েজ আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ইউনিয়নে অনেক বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধি আছেন। তারা ইচ্ছা করলেই এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াতে পারতেন, কিন্তু কেউ কখনো তাকায় না। আমরা প্রতিবেশীরা যতটুকু পারি দেখাশোনা করি। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সহৃদয়বান ব্যক্তিদের ছালেহা বেগমের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এই বিষয়ে ফরিদগঞ্জ নির্বাহী অফিসার সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন তিনি এখনো ভাতাভোগী। ব্যাংকে নিয়মিত টাকা জমা হচ্ছে। বিষয়টি হয়তো তিনি জানতেন না অথবা বই হারিয়ে গিয়েছে বলে মনে করেছেন ভাতা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে বয়স্ক ভাতা বই তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন সমাজকর্মীর মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হবে।