শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী ক্লাস চলাকালীন অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না : অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

লুৎফুর রহমান :

চাঁদপুর পৌর শহীদ জাবেদ স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে পৌর শহীদ জাবেদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর পৌর প্রশাসক মোঃ এরশাদ উদ্দিন। এ সময় তিনি বলেন,
চাঁদপুর পৌরসভার অধীনে ৮ স্কুল আছে এর মধ্যে হাই স্কুল ৩ টা আর প্রাইমারি স্কুল ৫ টা এগুলো সবগুলোই পৌরসভার অনুদানে চলে, তবে বেশ কিছু স্কুলে উন্নয়নমূলক কাজ করতে হবে আবার কিছু জরুরী কাজের প্রয়োজন, অতিশীঘ্রই আমরা কাজ শুরু করবো বলে আশাবাদী। এই স্কুলে মাঠ নেই, আমি জানতে পেরেছি দখলবাজ ব্যক্তি এ প্রতিষ্ঠানের সম্পদ দখল করে রেখেছেন, আমি কাগজ পত্র দেখে যদি সব ঠিকঠাক থাকে তাহলে ইনশাআল্লাহ জায়গা উদ্ধার হবে। তবে বিদ্যালয়ে জমি উদ্ধার কাজে এলাকার সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের একটা মিশন ভিশন আছে আমি শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি, শিক্ষার ক্ষেত্রে আমি কোন বিচ্যুতি পছন্দ করি না। এবার যারা এসএসসি পরীক্ষার্থী তাদের শতভাগ ভালো রেজাল্টের আশাবাদী। এতে যদি তাদের জন্য সান্ধ্যকালীন ক্লাসও লাগে অথবা শুক্র শনিবারও যদি ক্লাস লাগে আমি প্রধান শিক্ষককে বলবো অভিভাবকদের সাথে কথা বলে বিশেষভাবে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সান্ধ্যকালীন ক্লাসও চালাবেন। তারপরেও আমরা বোর্ডের মধ্যে একটা পর্যায়ে থাকতে চাই। অভিভাবকরাও আপনার স্কুলে এসে মনিটরিং করবেন।
স্কুলের ভাল রেজাল্টের জন্য আমরা যে কোন পদক্ষেপ নিতে রাজি আছি, শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে অনুরোধ আপনারা শিক্ষার্থীদের কে ভালো মত যত্ন নিয়ে লেখাপড়া করাবেন এবং আপনারাও সময় মতো স্কুলে এসে ক্লাসগুলো মনোযোগ সহকারে নিবেন। আপনারা যদি কোন প্রশিক্ষণ চান আমি সেই ব্যবস্থা করতেও রাজি আছি। আপনারা স্কুল থেকে যা আয় করেন তা কিন্তু আপনারা নিজেরাই ব্যায় করেন বরং আমরা পৌরসভা থেকে আপনাদেরকে ভর্তুকি দেই সুতরাং রেজাল্ট ভালো করতে হবে। আমরা পৌরসভা থেকে সারপ্রাইজ ভিজিট হবে। প্রধান শিক্ষককে বলব, শিক্ষক যখন ক্লাসে যাবে ওই শিক্ষকের মোবাইলটা আপনার কাছে রেখে দেবেন। ছাত্রছাত্রীরা এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত কোন ধরনের মোবাইল স্কুলে আনা যাবে না। এ ব্যাপারে কোন ছাড় হবে না।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরে আলম পাটোয়ারী ও দীপক দাসের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কলেজের অধ্যক্ষ ওমর ফারুক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রি তৃষ্ণা, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আজম বিন শরীফ।
আরো বক্তব্য রাখেন, অভিভাবক প্রতিনিধির সদস্য ও সদর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি নয়ন মাহমুদ ভূঁইয়া, চাঁদপুর জেলা মহিলা দলের সদস্য এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাহিদ সুলতানা সেতু।
উপস্থিত ছিলেন, মমতাজ উদ্দিন পৌর রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, আমিনুল হক পৌর রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খায়রুল বাশার, পশ্চিম বিষ্ণুদি পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারজানা পারভিন, পীর মহসিন উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম, ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাভাপতি হাবিবুল্লাহ পাটোয়ারী, ১১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন ভূঁইয়া, জেলা যুবদলের সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউসুফ মিয়াজী, ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদ ঢালী, অভিভাবক প্রতিনিধির সদস্য রিনা বেগম, যুগ্ম সম্পাদক শাহ আলম কিরণ, এছাড়া প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষিক শিক্ষকাবৃন্দসহ আরও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিথিবৃন্দ পুরস্কার তুলে দেন।

Loading

শেয়ার করুন: