স্বপন ঘোষের জীবনটা এমন করুণ হলো কেন?

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি:

আয় নেই, ভিটেমাটি নেই, ঘর নেই, সুখ নেই, শরীর নেই তাহলে আছেটা কি! আসলে কিছুই নেই স্বপন ঘোষের। জীবনের মাঝ বয়সে এসে এক দূর্বিসহ জীবনের তরি পার করছেন। দুটি পুকুরের মধ্যবর্তী অংশের কয়েক হাত জমির উপর পলিথিন টানিয়ে দরজাবিহীন একটি ঘরে বসবাস করছেন। ঘরের জমিটুকুর মালিক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজী। এই গাজীর করুনায় স্ত্রী আর ৫ সন্তান নিয়ে বসাবাস করছেন স্বপন ঘোষ। স্বপনের থাকছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির হোসেন গাজীর বাড়ির পূর্ব পাশের পুকুরের পাড়ে।

সরজমিনে দেখা যায়, দুই পুকুরের মাঝখানে সরু একটি পুকুর পাড়। সেই পাড়ে জীর্ণ-শীর্ণ ঝুপড়ি ঘর। ঝুপড়ি ঘরের ছাউনিতে পলিথিন। আর বেড়ায় পাটখড়ি সেই পাটখড়ি পর্যন্ত ক্ষয়ে ক্ষয়ে নষ্ট হয়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। সেই ছিদ্রগুলো পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। সামান্য একটু বাতাসে ঘরটি নড়বড়ে উঠে। এই ঘরেই ৫ সন্তান স্ত্রী আর দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত স্বপন ঘোষের সংসার। এই সংসারের ঘানি টেনে ইতিমধ্যে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। মেজো মেয়েটি বিয়ের উপযুক্ত হয়ে রয়েছে আরো আগ থেকেই।

রোগে-শোকে আক্রান্ত স্বপন চন্দ্র ঘোষ। অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। শারীরিক অক্ষমতা জন্য কাজ করাতো দূরের কথা, বেশি দূর হাঁটা-চলাও তার পক্ষে অসম্ভব। তাই স্থানীয় একটি নাটেহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বাদাম বিক্রির আয়টুকু দিয়ে সংসার সামলে চলছেন স্বপন। বাদাম বিক্রির লাভের টাকায় কিছু হয়নি বলে প্রায় সময় অনাহারে কিংবা অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়।

স্বপন চন্দ্র ঘোষ বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের নাটেহরা গ্রামের মৃত লালমোহন ঘোষের ছেলে। ৫ সন্তানের মধ্যে ১ মাত্র ছেলে ফ্রিজ মেরামতের কাজ শিখছে। মেজো মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে এবং সেজো মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। আর ছোট মেয়ে আসছে বছর শিশু শ্রেণিতে ভর্তি হবে।

সরজমিনে গেলে স্বপন ঘোষ বলেন, নাটেহারা ঘোষ বাড়ী পৈত্রিক নিবাস। কিন্তু তার বাবার কোন সহায়-সম্পদ না থাকায় বাধ্য হয়েই এ ঝুপড়ি ঘরেই কোন মতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকছেন। নিজের ভিটেমাটি না থাকায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় তার বাড়ির এককোনে থাকছি। যেখানে টাকার অভাবে ঠিকমতো সংসার চালাতে পারছিনা। সেখানে ঔষুধ, পথ্য কিনবো (ক্রয়) কি দিয়ে, আর বসতঘরই বা ঠিক (সংস্কার) করবো কি করে ?

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি লোটাস দেলোয়ার জানান, স্বপন ঘোষের জীবনটাই যেন মূল্যহীন। সরকারি অর্থায়নে যে সকল ঘর বরাদ্ধ দেয়া হচ্ছে সেই বরাদ্ধ থেকে তাকে ঘর দেয়া যেতো কিন্তু তার তো বসত ভিটে নেই। কোন হৃদয়বান ব্যক্তি স্বপনকে অন্তত ১ শতাংশ জমি দিলে আমরা চেয়ারম্যান আর ইউএনও‘কে অনুরোধ করে বসত ঘর এনে দিতে পারবো।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন গাজী বলেন, গৃহহীনদের জন্য সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু স্বপন ঘোষের নিজস্ব সম্পত্তি (ভূমি) না থাকায়, তাকে ঘর করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া সরকারিভাবে ১০ টাকা কেজি ধরে চালসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়া জানান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ভূমির ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বপন চন্দ্র ঘোষকে বসতঘর করে দেয়া হবে।

Loading

শেয়ার করুন: