ঝড়ে মেঘনার চরে আটকা পড়েছিলো
তিন লঞ্চ,যাত্রীরা নিরাপদে বাড়ি ফিরেছে
ফারুক হোসেন ॥
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে ঝড়ের কারণে আটকা পড়েছিরো যাত্রীবাহী তিনটি লঞ্চ। যাত্রীরা নিরাপত্তায় বাড়ি ফিরছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার মেঘনা নদীর ষাটনল ও বাহাদুরপুর চরসংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করেই মেঘনা নদীতে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৈরী আবহাওয়ার সৃষ্টি হলে নদীপথে চলাচলরত আটকে পড়া লঞ্চগুলো হচ্ছে চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটের এমভি সমতা ও এমভি সাথী এবং ঢাকা-চাঁদপুর রুটের আল-বোরাক।
স্থানীয় সূত্র ও নৌ-পুলিশ জানা গেছে, চাঁদপুর থেকে বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘এমভি সাথী’ লঞ্চটি ঝড়ের কবলে পড়ে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনাপাড়ের বাহাদুরচরে আটকা পড়ে। ঝড় শুরুর পর এদিক-ওদিক দুলতে দুলতে লঞ্চের পাখার মধ্যে কারেন্ট জাল আটকে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লঞ্চটি স্থানীয় বাহাদুরপুরচরে গিয়ে উঠলে আর নামানো সম্ভব হয়নি। পরে যাত্রীরা ট্রলারে করে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন এবং চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটের ‘এমভি সমতা’ লঞ্চটি মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার পরপরই ঝড়ের কবলে পড়ে। লঞ্চটি ঝড়ের প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে বেশিক্ষণ টিকতে না পেরে ষাটনল ও গজারিয়ার শোল্লানীচরে এলাকায় শতাধিক যাত্রী নিয়ে আটকা পড়ে।
অপরদিকে ষাটনল লঞ্চঘাট থেকে এক থেকে দেড় কিলোমিটার পূর্বে চরআব্দুল্লাহপুরে ঢাকা-চাঁদপুর রুটের বিলাসবহুল আল-বোরাক লঞ্চটিও আটকা পড়ে।
এদিকে নৌ-পুলিশ ও স্হানীয়রা তিন লঞ্চে থাকা সব যাত্রীদেরকে উদ্ধার করে গন্তব্য পৌছার ব্যবস্থা করেছে।
ষাটনল লঞ্চঘাটের ইজারাদার দবির উদ্দিন ও মোহনপুর লঞ্চঘাটের ইজারাদার বোরহান উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, আকস্মিক ঝড়ে নদীপথে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এমভি সমতা লঞ্চে আটকা পড়া সাংবাদিক গোলাম নবী খোকন বলেন, হঠাৎ করেই নদীতে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। চারদিকে দমকা হাওয়া আর ঢেউয়ে লঞ্চ দুলতে থাকে। একসময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে চালক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে লঞ্চটি নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে চর এলাকায় আশ্রয় নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাই।
মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, এমভি সমতা ও এমভি সাথী উভয় লঞ্চের যাত্রীরাই নিরাপদে রয়েছেন। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
![]()