কেএম নজরুল ইসলাম :
পৃথক পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদগঞ্জের ৩ মোটর সাইকেল আরোহী কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। অপর এক ঘটনায় নবম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত শবদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ।
জানা যায়, শনিবার (২১) ডিসেম্বর দুপুরে ফরিদগঞ্জের সুবিদপুর ইউনিয়নের কামতা বাজার এলাকা থেকে শাহাদাত হোসেন (১৬) ও ইকবাল হোসেন (১৭) নামে দুই বন্ধু মোটর সাইকেলযোগে সুবিদপুর এলাকায় যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষ হলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটর সাইকেল আরোহীরা সড়কের পাশে পড়ে যায়। এসময় সিএনজিটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইকবাল খানকে মৃৃত ঘোষণা করে এবং শাহাদাতের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা নেওয়ার পথে সেও মারা যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে। নিহত ইকবাল হোসেন মূলপাড়া গ্রামের হাজী বাড়ীর মো. খাজে আহমেদের ছেলে। শাহাদাত হোসেনও একই গ্রামের ওবায়দুল্লাহর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইকবাল খান ও শাহাদাত হোসেন একই মোটরসাইকেলে করে একতা বাজারে থেকে মুন্সিরহাট বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বদরপুর রাস্তার মাথায় গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশার সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইকবাল খান ও শাহাদাত হোসেন গুরুতর আহত হয়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, মোটরসাইকেলের বিপরীত দিক থেকে একই সাথে যন্ত্রদানব ট্রাক্টর ও সিএনজি অটোরিকশা আসছিল।
এদিকে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে মোটর সাইকেল যোগে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে রায়পুর উপজেলাধীন বাসাবো এলাকায় অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষে ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের হর্ণি দুর্গাপুর গ্রামের শাহজাহানের ছেলে মোটর সাইকেল আরোহী তানজীম আবদুল্লাহ (১৮) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কমলাশীষ রায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
অপর এক ঘটনায় শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার পূর্ব লাড়ুয়া গ্রামে নানার বাড়ি থেকে জোহা আক্তার (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে স্থানীয় রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। জোহা আক্তার একই উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের ওমান প্রবাসী জহিরুল ইসলামের মেয়ে। পুলিশ তার নানার বাড়ির বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে থাকা মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর পর পরিবারের কাছে হস্তান্তার করা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, সবগুলো মৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। সন্তানদেরকে মোটর সাইকেল দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকরা আরো দায়িত্বশীলার ভূমিকা রাখতে হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, অভিযোগের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।