আরেফিন সমুন ॥
চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৬ এপ্রিল ) জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহসীন উদ্দিন বলেন, “আমাদের নাগরিক জীবনে যেসব চাহিদা প্রয়োজনীয় তার মধ্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা অন্যতম। মানুষের স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরগুলোকে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য আমি সবাইকে অনুরোধ করবো। বিশেষ করে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের একটা ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। শুধুই সেবার মান নয়, অদক্ষ ও অপ্রতুল কর্মীর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমি সিভিল সার্জনের কার্যালয়কে অনুরোধ করবো প্রয়োজনে আপনারা বেশি বেশি অভিযান চালান। আমি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্দিষ্ট করে দিবো যাতে উনাকে নিয়ে আপনি অভিযানে যেতে পারেন। লাইসেন্স বিষয় না, এখানে তাদের রোগীরা সেবা পাচ্ছেন কিনা সেটা দেখবেন।”
চাঁদপুর সদর হাসপাতালের দালাল আটক সম্পর্কে তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে সংবাদপত্রে দেখলাম সদর হাসপাতালে কয়েকজন দালাল আটক করা হয়েছে। এটা খুবই বিব্রতকর যে সেনাবাহিনী তাদের আটক করেছেন। অথচ আমাদের সদর হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ নিরব। তারা নাকি এ সমন্ধে জানেই না। আমাকে জানিয়েছে তারা নাকি কয়েকজনকে জানে, চিনে। আমি বলবো তারা খুব ভালো করেই জানে অপরাধী কারা। আমি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কে বলবো আপনি তাদের বিরুদ্ধে অভিযান করেন। দরকারে আমাদের সাহায্য নেন। পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা আর মানসম্মত খাবার দেয়া হচ্ছে কিনা তা তদারকি করেন।”
তিনি বলেন, “প্রত্যেক দপ্তর অফিসে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন ঠিক করে দিন। আপনারা তাদের দপ্তরে যান। ভবনের পর্দা থেকে শুরু করে কাঠামোগত সমস্যা দেখেন। পর্যালোচনা করে তা নিরসনের উদ্যেগ নেন। আমি পৌর প্রশাসক মহোদয়দের অনুরোধ করবো আপনি অন্যান্য কর্মকর্তাসহ শহরের ডাম্পিং স্টেশন কোন জায়গায় করলে ভালো হয় বা এখন যে অবস্থায় আছে সেটা আরো ভালো করা যায় কিনা সেটা দেখেন। কারন আমি যতটুকু জানি একমাত্র শাহরাস্তি ছাড়া চাঁদপুরের কোথাও ভালো ডাম্পিং স্টেশন নাই। যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা রাখলে শহর দূর্গন্ধময় হয়ে পড়বে। সামনে বর্ষাকাল। আশা করি ড্রেনেজ বা সুয়ারেজ সিস্টেমের প্রতি নজর দিবেন। ভারী বর্ষায় কোথাও পানি জমতে পারে কিন্তু সুয়ারেজ সিস্টেম ভালো হলে সেটা আস্তে আস্তে নেমে যাবেই। এগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করে আপনারা আমাকে জানাবেন।”
তিনি আরো বলেন, “আমকে প্রেসক্লাবের সভাপতি বললেন শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে চাঁদপুরবাসীর একটা দীর্ঘদিনের অসন্তোষ আছে। বলা হচ্ছে এ বাঁধের সিমেন্ট খুব নিম্নমানের। কে বা কারা কাজ করে, এখানে কারা ঠিকাদার এ বিষয়ে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনারা হঠাৎ করে কাজ দেখতে যান। দেখেন কোনো প্রকার গড়িমসি হচ্ছে কিনা। আমিও প্রয়োজনে আকস্মিক পরিদর্শনে যাবো।”
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান (সার্বিক), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুকুর চাকমা, পৌর প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া, এনএসআইয়ের যুগ্ন পরিচালক মো: আবু আবদুল্লাহ, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত জামিল সৈকত, প্রেসক্লাব সভাপতি রহিম বাদশা, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ. কে. এম. মাহবুবুর রহমান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী নাসিম আহমেদ টিটো, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আহসান কবির, পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: আবু তাহের, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নাছিমা আক্তার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: মিজানুর রহমান, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ পরিচালক মো: মাহবুবুর রহমান, জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: জাহিদ হাসান খানসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
![]()