মসজিদ কমিটির সভাপতির ধারণা চাঁদপুরে খতিবের ওপর হামলাকারী উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥

চাঁদপুরে জুমার নামাজ শেষে মসজিদের খতিবকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলাটি করেছে আহত খতিব মাওলানা আ ন ম নূর রহমান মাদানীর বড় ছেলে আফনান তাকি।

শনিবার বিকালে হামলাকারী বিল্লাল হোসেনকে আদালতে তোলা হয়। জবানবন্দি শেষে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান। বিজ্ঞ আদালত ঘাতককে রিমান্ড না দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

চাঁদপুরে ইমামের উপর হামলা করা ঘাতক বিল্লাল হোসেন বলেন, রোজার একদিন আগে ইমাম সাহেব বয়ান করছিলেন। কিছু লোক মিষ্টি নিয়ে আসেন মিলাদের জন্য। তারা বলেছেন, হুজুর আজকে মিলাদের আয়োজন আছে, দয়া করে একটু মিলাদ পড়াবেন।

তখন হুজুর মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোরআনে মিলাদ বলতে কিছু নেই। এই কথা বুঝাতে গিয়ে তিনি মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, অফিসারের কাছে দরখাস্ত না করে পিয়নের কাছে দরখাস্ত করলে তা কি মঞ্জুর হবে? তখন আমার মাথায় ঢুকলো আমার দয়াল নবীকে ইমাম সাহেব পিয়ন বলে অপমান করেছেন। কেন পিয়ন বললেন? আমার নবী তো দো-জাহানের বাদশা। সেটাই আমি মানতে পারিনি। তাই কোরবানির এক মাস আগে ১৫শ টাকা দিয়ে আমি একটা অস্ত্র বানিয়েছি। গায়ে আমি লিখি নবীকে অপমান করার দায়ে তাকে কতল করা হয়।

এদিকে মাওলানা আ ন ম নূর রহমান মাদানীর উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠে। আজ বাদ আছর শহরের বাইতুল আমিন জামে মসজিদের সামনে চাঁদপুর জেলা এবং শহর জামাতের উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, সেক্রেটারি মো: শাহজাহান মিয়া, শহর জামাতের আমির এডভোকেট মোঃ শাহজাহান খান প্রমুখ।

মাওলানা আ ন ম নূর রহমান মাদানীর বড় ছেলে আফনান তাকি বলেন, আমার বাবার উপর হামলাকারী ব্যক্তির বিচার দাবি করছি। আমার বাবাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার রাতে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা হলি কেয়ার হসপিটালে চিকিৎসা নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত আছেন।
চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিন্টু দত্ত বলেন, শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে মাওলানা আ ন ম নূর রহমান মাদানীর বড় ছেলে আফনান তাকি বাদি হয়ে আসামি বিল্লাল হোসেনের নামে থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি হুমায়ূন কবীর চৌধুরী বলেন, হুজুর কবে কী বলেছে তা আমাদের জানা নেই। ঘাতক আমাদের মসজিদে মাঝে মধ্যে নামাজ পড়ে। সে একজন মুদি দোকানি। সে এমন করবে এটা আমরা বুঝতে পারিনি। কিংবা এ ধরনের কোনো আলামতও আমরা ইতিমধ্যে দেখিনি। আমাদের মনে হয়, লোকটি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সদস্য হতে পারে।

মসজিদের নিয়মিত ইমাম মাহবুবুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় আমরা হতবাক, ভীত-সন্ত্রস্ত। তিনি বলেন, আমাদের খতিব সাহেব অত্যন্ত নম্র ভদ্র এবং আমলী মানুষ। তিনি মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি কখনোই নবীকে খাটো করে কথা বলতে পারেন না।

Loading

শেয়ার করুন: