আরেফিন সুমন ॥
বৃষ্টিস্নাত সকাল ছিল। আবেগঘন দিনে আকাশও যেন আনন্দে এক হওয়ার জন্য সকাল থেকেই অঝোরে নিজের খুশি জাহির করছিলো। সাথে ছিল কারো ছেলে বা সহপাঠী হারানোর বেদনার মিশ্রণ। সেই মিশ্রিত অনুভূতির মধ্যে চাঁদপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসন।
গতকাল সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যেগে শহীদ মিনারে জুলাই শহীদদের স্মরনে স্মৃতি স্তম্ভের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন।
ভিত্তিপ্রস্তর কালে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা আসলে আগামী ৫ আগস্ট এই শহিদ স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবো। আসলে এই স্তম্ভটি আমাদের প্রেরণার উৎস। এই স্তম্ভটি গণতন্ত্র, সুশাসন ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে থেকে যাবে। আমাদের যারা শহিদ হয়েছেন তাদের ও তাদের পরিবারের স্বান্তনার জন্য তার জন্য আমাদের সামান্য প্রচেষ্টা। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে কেউ যদি এই চেতনাকে ভুলে গিয়ে আবার স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে তাহলে আমাদের বাংলার মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এই শহিদ স্তম্ভটি তার প্রতীক হিসেবে ধরা যায়।
তিনি আরো বলেন, প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী আমাদের।চাঁদপুর জেলায় শহিদের সংখ্যা একত্রিশ (৩১) জন। আহত হয়েছেন ২৩০ জন। আন্দোলন করতে গিয়ে কারো অঙ্গহানি হয়ে থাকেন সেটাও সরকার দেখছেন। তাই সংখ্যাটা ভবিষ্যতে আরো বাড়তে পারে।
উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব (পিপিএম), পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক মো : গোলাম জাকারিয়া, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সদর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার আল এমরান খাঁন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এডভোকেট শাহজাহান মিয়া, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সলিম উল্যা সেলিম, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: মিজানুর রহমান এবং জেলার অন্যান্য ম্যাজিস্ট্রেটগণ।শেষে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
দোয়া করেন কালেক্টরেট জামে মসজিদের ইমাম মাওলনা মো: মোশাররফ হোসাইন।
![]()