স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুরে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ীদের ও শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
গতকাল (১৬ ডিসেম্বর ) মঙ্গলবার প্রতিবারের এইবারও চাঁদপুর ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো: নাজমুল ইসলাম সরকার।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমার সঞ্চালনায় জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা সবাই মিলে আরেকটু চিন্তা করে চাঁদপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের একটা ডকুমেন্ট বা দলিল মানে চাঁদপুরে কতজন মুক্তিযোদ্ধা অথবা এই জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের ডিটেইলসহ একটা তথ্য বই তৈরি করি কারণ আগামীতে আপনি যখন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন। তখন আপনার একটা গল্প হয়ে যাবেন, তখন ওরা আপনাকে এই বইয়ের মধ্যে খুঁজবে আপনার নামটা আছে কিনা। সরকারি তালিকায় অবশ্যই আছে কিন্তু আপনার জেলায় এমন একটা বই থাকবে যেখানে আপনার নাম, ঠিকানা, কোথায় যুদ্ধ করেছেন, কিছু স্মৃতি কথা সম্বলিত একটা বই প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, আগামী দশ বছর পর হয়তো আপনার ছায়াটাও আমাদের পাশে থাকবে না। আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনার প্রজন্ম, সন্তান ভুল করতে পারে কিন্তু বাবা হিসাবে আপনার ভুল করা ঠিক হবে না। আমার অনুরোধ আপনার পাশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক সহ কলেজ রয়েছে সেখানে আপনারা হয়তো শিক্ষক হিসেবে বা কমিটিতে অথবা আপনি ঐ প্রতিষ্ঠানের পাশেই আছেন আপনারা সবাই ঐ প্রতিষ্ঠানের সাথে হাত মিলিয়ে চলবেন। বাচ্চাদেরসহ আমাদের সঠিক ইতিহাস শুনাবেন, জানাবেন এবং শিখাবেন। কারণ চাঁদপুর হানাদার মুক্ত কবে হয়েছে আমরা তা ৭১ দেখিনি। আমি মুক্তিযুদ্ধ করিনি তবে আপনারা বলেছেন বলেই আমি শুনেছি। এখনই সময় আপনাদের কাছ তা শুনার চেষ্টা করতে হবে। যেখানে বিদ্যালয়, কলেজ অথবা লোকসমাগমে আপনাদের মুখ থেকে আসল ইতিহাস তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, বহুদিন বহুবেলা গড়িয়েছে আর মিথ্যার খেলা চলে না। ‘২৪ এর গণ-অভ্যুত্থান যদি বলি ৭১ কে হারিয়েছে আমি সেটা বিশ্বাস করি না। তবে ২৪ হয়েছে ন্যায়ের জন্য। ঘুনে ধরা সমাজকে সুড়সুড়ি দিয়ে বলে দিয়েছে “আর না”। আমরা দেখেছি এবং দেখছি কে বলে আমি মুক্তিযোদ্ধা আবার কেউ বলে উনি মুক্তিযোদ্ধা নয়। এটা আর কতকাল থাকবে তাই বলছি।আমরাতো আরেকটা প্রজন্ম, আমরা ৭১ দেখিনি কিন্তু শুনেছি। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু আমার সামনে বসা মুক্তিযোদ্ধাদের দেখেছি। আমরা এই মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকেই সঠিক ইতিহাস জেনে এই প্রজন্মকে নিয়ে বাঁচতে চায়। আমরা এই প্রজন্ম একাত্তরের ইতিহাসকে এরকম সেরকম দেখতে চাই না। তাই এই দেনা পাওনার দোকান বন্ধ করতে হবে।
আরো বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মো: রবিউল হাসান, স্থানীয় সরকার বিভাগ উপ পরিচালক ও পৌর প্রশাসক মো: গোলাম জাকারিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: হামিদ মাস্টার, মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল আলম রব।
আরো বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বরকন্দাজ, আবুল কালাম চিশতী, মো: মুজিবর রহমানসহ আরো অনেকে।
উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (সাধারণ) মো: নাজমুস শাহাদাত
সহকারি কমিশনার (নেজারত ) মো: আনিসুর রহমান, ফাহিম, সহকারি কমিশনার (জেএম) বিশাল দাস।
![]()