মেঘনা বার্তা ডেস্ক:
শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪৫ টি বাজারে আজ থেকে খাজনা আদায় বন্ধ হতে যাচ্ছে। খাজনা আদায়ের নামে হয়রানি, দখল, চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বাজার গুলোতে আধিপত্য বিস্তার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে ইজারা গ্রহণ দলীয় প্রভাবসহ নানান অভিযোগে নাজেহাল হতে দেখা যেত সাধারণ ও প্রান্তিক চাষীদের। চাঁদাবাজি ও দখলের মতো অপরাধ গুলোর উৎপত্তি শুরু হয়ে থাকে বাজার কেন্দ্রীক। বর্তমান সরকার চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
শাহরাস্তি – হাজীগঞ্জ উপজেলার বাজার গুলোতে খাজনা আদায় বন্ধ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইতিপূর্বে এধরনের উদ্যোগ নিতে লেখা যায়নি কোনো সরকার অথবা ব্যক্তিকে। নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের উদ্যোগে নির্বাচনী এলাকার সকল বাজার গুলোতে প্রান্তিক চাষীদের সহায়তা ও হয়রানি বন্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর চাঁদপুর -৫ আসনের দুই উপজেলায় চাঁদাবাজি ও কৃষকদের হয়রানি বন্ধে এ ঘোষণা দেন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এমপি।
উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ইতিমধ্যেই বাজার গুলোতে ইজারা দেওয়ার বিজ্ঞাপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর রাজনৈতিক ভাবে সরকারি সকল নিয়মনীতি অনুসরণ করে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা দেয়া হয়েছে। ১ লা বৈশাখ শাহরাস্তিতে এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।
ইতিমধ্যেই বাজার গুলোতে খাজনা মুক্ত ঘোষণা দেয়া হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ রুপম জানান, প্রান্তিক চাষীদের হয়রানি বন্ধে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সংসদ সদস্য মহোদয়। আমরা দলিয় ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি এটি একটি মহতী উদ্যোগ এতে করে খাজনা আদায়ের বাহানা করে কেউ অতিরিক্ত টাকা ও চাঁদাবাজি করতে পারবে না।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া জানান, আমরা জনগণের কাছে দেয়া সকল প্রতিশ্রুতি একে একে রক্ষা করতে প্রস্তুত। এটি আমাদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি। শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন জানান, এধরনের উদ্যোগ ইতিপূর্বে দেখেনি। এটি একটি মহতী উদ্যোগ। এতে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হবে না। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ভাবে রাজস্ব পরিশোধে করা হয়েছে।
চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক বলেন, আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে এ উদ্যোগ নিয়েছি। খাজনা আদায়ের নামে সাধারণ জনগণ হয়রানির শিকার হতে হয়। অনেকেই এই অজুহাতে চাঁদাবাজি করে থাকে। আমার সংসদীয় আসনে কোনো প্রকার চাঁদাবাজি ও মানুষ হয়রানি যেন না হয় সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডের মতো সকল জায়গায় ইজারা ও চাঁদাবাজি বন্ধ থাকবে। কোন অজুহাতে মানুষের প্রতি অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুম মেনে নেয়া হবে বলে না।
![]()