এক ক্ষমতাধরের ভুতুড়ে বাড়ী

 

 

সাহাদাত হোসেন :

একসময় নেতাকর্মীদের আনাগোনা, স্লোগান আর রাজনৈতিক কোলাহলে মুখর থাকত যে বাড়িটি, সেখানে এখন শুধুই ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যেখানে চলত মতলব তথা চাঁদপুরের রাজনীতির নীতি নির্ধারণী আলোচনা, ক্ষমতার সেই উঠান আজ যেন এক যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা। চারদিকে পোড়া কালো দেয়াল, ভাঙচুর ও ঝোপঝাড় সব মিলিয়ে একসময়ের দুর্দান্ত প্রভাবশালী বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপ।

বলছি চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মতলব উত্তরের মোহনপুরের বাড়ির কথা। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই পুরো বাড়িটি জনমানবহীন ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে একনজর দেখতে বা তার ‘আশীর্বাদ’ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এ বাড়িতে ভিড় করতেন। বিশেষ করে নির্বাচনের সময়ে এই বাড়িটিই হয়ে উঠত পুরো মতলবের রাজনীতির মূল নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র। সরকারি আমলা, ঠিকাদার আর পদপ্রত্যাশীদের গাড়ির বহরে মুখর থাকত ফটকের সামনের রাস্তা।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। বিক্ষুব্ধ জনতা ও দুর্বৃত্তরা দুই দফায় এই বিশাল বাড়িটায় ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে বাড়ির ভেতরের আসবাবপত্র, এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে যাওয়া বাড়ির চারপাশে এখন গজিয়েছে লতাপাতা।

বর্তমানে দিনের বেলা উৎসুক মানুষ দূর থেকে বাড়িটি দেখতে এলেও, সন্ধ্যা নামলেই পুরো এলাকায় নেমে আসে এক ভয়ার্ত পরিবেশ। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী বা মায়া চৌধুরীর পরিবারের কোনো সদস্য এখন আর এই এলাকায় আসেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রবীণ বাসিন্দা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “সময় কত দ্রুত পাল্টে যায়! রাজনীতির এই নির্মম পরিণতি দেখে অবাক হতে হয়। একসময় এই বাড়ির সামনে দিয়ে হাঁটার সময় মানুষ সমীহ করে চলত, আর আজ সেখানে কেবলই শূন্যতা।”
৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়িটি এখনো একই অবস্থায় পড়ে আছে।

একসময়ের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুটি এখন কেবলই রাজনৈতিক উত্থান-পতনের এক জ্বলন্ত ও নির্বাক সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

Loading

শেয়ার করুন: