আলেমরা সমাজে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করে না : ভিসি শামছুল আলম

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি :

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. মো. শামছুল আলম বলেছেন, ইসলামী শিক্ষা হচ্ছে অক্সিজেন। বাংলাদেশের করুণ পরিণতির জন্য একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি দায়ী। যারা ইসলামী চিন্তাধারা পছন্দ করেন না, তাদেরকে আমরা নেতা বানিয়েছি। আলেমরা সমাজে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করে না। আমরা বাংলাদেশকে আর আগের অবস্থানে ছেড়ে যাব না। আরবি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়াতে হবে। বর্তমানে আরবি না জানা কেউ আর শিক্ষক হতে পারবেন না। তরুণদের রক্তের উপর আমরা দাঁড়িয়ে আছি।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় শহরের চেয়ারম্যান ঘাটস্থ ইউরো-এশিয়া কনভেনশন হল মিলনায়তনে চাঁদপুরে “মাদ্রাসা শিক্ষা: সমস্যা ও প্রতিকার প্রেক্ষিত বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে চাঁদপুর জেলা আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটি।

ভিসি বলেন, শিক্ষার মধ্যে বৈষম্য আছে, তা সকলের জানা। তবে বর্তমান সরকার তা দূর করার চেষ্টা করছে। সেশনজট, সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে। এটা আঞ্চলিক নয়, মনে হচ্ছে জাতীয় সেমিনার। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দেশপ্রেম—সব কিছু পশ্চিমাদের মধ্যে রয়েছে। আমাদেরকে পরিবর্তন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি ১৬০০ মাদ্রাসার দায়িত্বে রয়েছি। অনেক মাদ্রাসায় এখনো ৫ আগস্টের আগের ভাব রয়েছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা সপ্তাহে দুই দিন প্রতিষ্ঠানে আসেন—এরকম আরও অভিযোগ আছে। বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ বাচ্চাদের মাদ্রাসায় দিচ্ছেন। আমাদের শিক্ষকদের খেয়াল রাখতে হবে, শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। আমরা ইসলামী শিক্ষাকে গুরুত্ব এখনও দিতে পারিনি। এর কারণে দ্বীন শিক্ষার অভাব রয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. নাজমুল ইসলাম সরকার, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ছালেহ আহমাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিরা নূর।

সভাপতিত্ব করেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রূহুল্লাহ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাজীগঞ্জ সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু বকর।

সংগঠনের সদস্যসচিব এটিএম মোস্তফা হামিদীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ফরিদগঞ্জের একাডেমিক সুপারভাইজার আবদুল্লাহ আল মামুন, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আলী জিন্নাহ, মতলব দক্ষিণ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গাউসুল আজম প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, যুগোপযোগী মাদ্রাসা শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাঠ্যক্রম সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকাশ সময়ের দাবি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং কর্মমুখী দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

সেমিনারে চাঁদপুর জেলার সাড়ে ৬ শতাধিক মাদ্রাসার শিক্ষক, আলেম-ওলামা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং শিক্ষানুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা শেষে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে কয়েকটি বাস্তবধর্মী সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।

Loading

শেয়ার করুন: