ভীতু হলে সাংবাদিকতা করা যাবে না: এমপি হান্নান

 

 

জসিম উদ্দিন :

“সাংবাদিকদের কলমের দ্বারা সমাজের ভালোমন্দ অনেক কিছু দেখা যায়, যেভাবে আমরা আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখি। ছোটবেলায় পড়েছি, “অসির চেয়ে মসি বড়”—সাংবাদিকগণই এই কথা প্রমাণ করে যে তরবারি নয়, কলমই সবচেয়ে বড়। আমি আগেও যেমন অনেককেই হলুদ সাংবাদিক বলতাম, এখনও বলি। কারণ, এখনও কিছু কিছু সাংবাদিক তাদের চরিত্র প্রকাশ করে কাজেকর্মে। যা হলুদ সাংবাদিকতার শামিল।”

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এম.এ হান্নান এ কথাগুলো বলেন।

তিনি বলেন, “ফেসবুকে যারা জেনেশুনে মিথ্যা কথা লিখে, এরা কি মানুষ নয়? এদের কি বিচার হবে না? এরা কি বুঝে না তাদের মৃত্যু আছে! এরা কি জানে না– যারা মিথ্যা কথা বলতে পারেন তারা দুনিয়ার সকল পাপিষ্ঠ কাজ করতে পারেন? প্রিয় সাংবাদিকরা, এরা কারা, যারা ফেসবুকে উল্টাপাল্টা লিখে! এদের আসলেই লজ্জা নেই। ওদের জায়গায় আমি হলে এতক্ষণে কচুগাছে ফাঁসি দিতাম। এদেরকে বোঝান আপনারা।”

আরও বলেন, “তো ভোটের দিনের সবকিছুই অবগত রয়েছেন। উপজেলা থেকে সকলের সামনে ভোটগণনা করে জেলায় গিয়ে সেটার ডিক্লেয়ার হয়েছে। যেখানে কারো কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু কদিন পরে কে বা কাহারা এই ফলাফলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ভাই, মামলা করতে গেলে তো পয়সা খরচ হয়। মামলায় খরচ না করে সে পয়সাগুলি জনগণকে দিতেন, তাদের অনেক উপকার হত। মিথ্যা কথা বলে মামলা করা যায়, কিন্তু তার রেজাল্ট পাওয়া খুবই কষ্ট। প্রত্যেক ডুবে শালুক উঠে না—এটা তাদের মনে রাখা উচিত। তারপরও আমি বলি, মানুষ হিসেবে আমরা ভুল করতেই পারি; এটাকে সংশোধন করে আসুন আমরা সবাই মিলেমিশে এই ফরিদগঞ্জের উন্নয়ন করি।”

ফরিদগঞ্জবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “প্রিয় জনগণ, আপনারা আমাকে দলের বাইরে বলেন। কিন্তু সরকার তো আমাদেরকে আলাদা করে দেখেন না। আমরা তো এখনও সরকারি দলের লোকই। কারণ, এই উপজেলার জন্য সরকারের তরফ থেকে আমরা সমান ভাগ পাই। বরং কিছু কিছু আমরা বেশি আনতে পেরেছি। জনগণের ভালোবাসার জন্য বর্তমান রাষ্ট্রপতি ২৫২টি কল আমাকে দিয়েছে, যা অন্য অনেকেই আনতে পারেনি। বিগত ৬ মাসে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এসেছে। সেগুলোর বিস্তারিত তালিকা আছে।”

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি আরও বলেন, “প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা ভীত হলে সাংবাদিকতা করতে পারবেন না। সবসময় সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে। মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে সবসময় সত্য কথা লিখবেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবকে বলেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদেরকে তেলাপোকা ভাববেন না। আমরা জনপ্রতিনিধি, আমরা আপনার লোক। আপনি আমাদেরকে আদর করবেন, আমরা আপনাকে সম্মান করব। আমি চামচামি করি রাজার, কোনো রাজার চামচার চামচামি আমি করি না। আমি শুধু আপনার চামচামি করব। অতীতে বলেছি, এখনও বলছি।”

এসময় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, নুরন্নবী নোমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সোবহান লিটন, নুরুল ইসলাম ফরহাদ, সহ-সভাপতি এমকে মানিক পাঠান, মো. মহিউদ্দিন, মশিউর রহমান।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন প্রেসক্লাবের সদস্য কেএম নজরুল ইসলাম।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম পাটওয়ারী, জাকির হোসেন, আব্দুর রহমান, মাসুদ আলম, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আমানত গাজী, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেবেকা সুলতানা স্মৃতি, সাবেক কাউন্সিলর জাকির হোসেন গাজী, ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া-সহ ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

Loading

শেয়ার করুন: