বাংলা ভাষার বিকৃত ব্যবহার অবশ্যই বন্ধ করা উচিৎ: মাহমুদ জামান

আনোয়ারুল হক :

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেছেন, শুরুতেই যদি ভাষা আন্দোলন না হতো, তাহলে হয়তবা আমাদের মহান স্বাধীনতার সংগ্রামও পিছিয়ে যেতো। ভাষা আন্দোলনের এত বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো সর্বস্তরে বাংলা ভাষার যে চালুর যে আন্দোলন, এটি সফল হতে পরিনি। আমাদের উচ্চ আদালতে এখনো ইংরেজির ব্যবহার। আমাদের রাষ্ট্রীয় সংবিধানে বলা হয়েছে রাষ্ট্র ভাষা হবে বাংলা। সেই রাষ্ট্রভাষা বাংলা এখনো সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে পারিনি।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ইদানিং আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলার যে বিকৃতি দেখা দিয়েছে অর্থাৎ বাংলা ভাষার সাথে অন্য ভাষা মিশ্রিত করে ব্যবহার করা হচ্ছে, এটি অবশ্যই বন্ধ করা উচিৎ। আজকে আমি নতুন প্রজন্মের কাছে আহবান করবো। আমরা যখন বাংলা বলবো, তখন প্রকৃত বাংলা অর্থাৎ প্রমিত বাংলা বলবো। যখন ইংরেজী বলবো, তখন শুধুই ইংরেজী বলবো। কোন ভাষার প্রতিই আমাদের কোন বিদ্বেষ নেই। কিন্তু বাংলা ভাষাকে আমরা ভালোবেসে গ্রহন করবো। আগে বাংলা ভাষা, তারপর অন্য ভাষা। বাংলিশ ভাষা বলা আমাদের বন্ধ করতে হবে। এটা অব্যাহত থাকলে আমি মনো করবে বাংলা ভাষার প্রতি অসম্মান করা।

মাহমুদ জামান বলেন, আমাদের দেশেও কিন্তু বাংলা ভাষার পাশাপাশি অন্য ভাষার মানুষ রয়েছে। অর্থাৎ ক্ষুদ্র-নৃৃগোষ্ঠীর ভাষা রয়েছে, সেই ভাষার প্রতিও আমরা সম্মান দেখাবো। আঞ্চলিক ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলো টিকিয়ে রাখতে সরকারও পৃষ্ঠপোষকতা করছে, আপনারাও সহযোগিতা করবেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম জাকারিয়ার সভাপতিত্বে ও বিশিষ্ট ছড়াকার ডাঃ পীযুষ কান্তি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, পুরাণ বাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন মজুমদার, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্যাহ।

এরপরে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর ব্যবস্থাপনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এছাড়াও দিবস উপলক্ষ্যে বিকাল ৩টায় একই স্থানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি চাঁদপুর জেলার আয়োজনে ছোটদের হাতের সুন্দর লেখা, চিত্রাংকন, ইচ্ছেমত/শহীদ মিনার জলরঙ/প্যাস্টেল, দেশাত্মবোধক সংগীত ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

শিশু একাডেমির আয়োজিত অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ।

আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন, শিশু একাডেমির আবৃত্তি প্রশিক্ষক মো. আকরাম খান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল জলিল, চরনিলক্ষ্মী সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার।

সংগীত প্রতিযোগিতায় বিচারক এর দায়িত্ব পালন করেন, শব্দ সৈনিক কৃষ্ণা সাহা, কন্ঠশিল্পী ইতু চক্রবর্তী, শিশু একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক ফাতেমাতুজ্জান্নাত।

চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন, শিশু একাডেমির চিত্রাংকন প্রশিক্ষক অজিৎ দত্ত। সবশেষে অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলেদেন।

Loading

শেয়ার করুন: