আদালত প্রতিবেদক :
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে আটক চার ব্যক্তিকে আদালতের পরিবর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) মাধ্যমে জরিমানা করায় আইনি প্রশ্ন তুলেছে চাঁদপুরের আদালত। আইনগত প্রক্রিয়া লঙ্ঘন এবং বিচারিক এখতিয়ার বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) সশরীরে তলব করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাতে জানা যায় গত ৫ মে দৈনিক ‘চাঁদপুর প্রবাহ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, শাহরাস্তি থানার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন থেকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে ৪ জনকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই ৪ ব্যক্তিকে মোট ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা জরিমানা করেন এবং তা আদায় করা হয়।
চাঁদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদ স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়ে আদেশ প্রদান করেন। আদেশে বলা হয়:
ক্স দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৫০৯ ধারা অনুযায়ী ইভটিজিং একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ। ক্স বিশেষ করে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ১০ ধারার অধীনে এটি একটি আমলযোগ্য (ঈড়মহরুধনষব) অপরাধ। ক্স এই ধরনের অপরাধের বিচারিক কার্যক্রম বা সাজা প্রদানের একমাত্র এখতিয়ার জুডিশিয়াল বা আমলী ম্যাজিস্ট্রেটের, যা কোনোভাবেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা নয়।
আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্তদের নিয়মিত মামলার মাধ্যমে আমলী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উপস্থাপন না করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা আইনগত এখতিয়ারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটি দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২২০ ধারার পরিপন্থী হতে পারে বলেও আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া কেন অনুসরণ করা হলো না, সে বিষয়ে সুষ্ঠু ও আইনানুগ ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) আগামী ১২/০৫/২০২৬ তারিখে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিন তাকে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।
এই আদেশটির অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মহলে প্রেরণ করা হয়েছে।
![]()