বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি কর্মবিরতি সমাপ্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মচারী সমিতি (বাকাসস) চাঁদপুর জেলা শাখার ৩ দিন কর্মবিরতি পালন করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চাঁদপুর জেলা প্রশাসক চত্বরে এ কর্মবিরতি দিনব্যাপী করেন।

বিভন্ন দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চত্বরে তারা এ কর্মসূচি পালনকালে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের সভাপতি মো. নেছার আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মো.মিজানুর রহমান ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার উপদেষ্টা সাইফুল আলম, সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান হাওলাদার,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মামুনুর রশিদ,সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নূরুল্লা ফয়সাল,মোঃ আলমগীর সরদার,অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী প্রমুখ।

তারা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কর্মবিরতি পালন করছেন বলে জানান। কর্মবিরতিতে সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

এ সময় বক্তরা বলেন, সকল বিভাগীয় কমিশনার অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়,উপজেলা নির্বাহী অফিস এবং সকল সহকারী কমিশনার(ভূমি) অফিসে কর্মরত ১১-১৬ গ্রেডের চাকুরিজীবীদের পদ পদবী পরিবর্তন ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ দীর্ঘ দিন যাবত বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত ২০ জানুয়ারী,২০২০ থেকে বিভিন্ন তারিখে কর্মবিরতি পালন চলছে। চাঁদপুর জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৯৮৭ সালে অফিস সহকারী পদে চাকুরিতে যোগদান করে জনাব কৃত্তিলাল নাথ, জনাব রফিকুল ইসলাম মজুমদার, জনাব শহিদুল ইসলাম, জনাব শাহাদাত হোসেন, জনাব গৌর নিতাই কর্মকারসহ আরো অনেকে। সরকারি চাকুরিতে যোগদান করার পর থেকে একই পদ ও বেতন স্কেলে অবসর গ্রহণ করেন এসব কর্মচারীরা। এছাড়াও বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে চাকুরীতে যোগদান করে দীর্ঘ ৩২/৩৩ বছর চাকরি করলেও একই পদ ও বেতন স্কেল থেকেই অবসরে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) চাঁদপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের সুপারিশ : এদিকে কর্মচারীদের পদোন্নতির পক্ষে সুপারিশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও প্রায় সকল জেলার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীরা বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সহযোগী হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও গতিশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠ প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের পর মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীদের পদবি ও বেতন গ্রেড উন্নীত হলেও একই শিক্ষাগত যোগ্যতা, কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকার পরও তাদের পদবি ও বেতন গ্রেডের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ অনুমোদন থাকায় ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে পদবি পরিবর্তনের বিষয়টিকে ‘যৌক্তিক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অথচ এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পরও তাদের পদ পদবি, পদোন্নতি ও গ্রেডে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বক্তরা বলেন, এমন প্রেক্ষাপটে মাঠ প্রশাসনের ১১-১৬ গ্র্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বর্তমান পদ পরিবর্তন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পদবী পরিবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ করেছেন তারা। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের তৎকালীন সভাপতি কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে সার্ভিসের ২০১৪ সালের ৪ নভেম্বরের সভায় কর্মচারীদের পদোন্নতির বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, তাদের পদোন্নতি দেওয়া হলে পদোন্নতি প্রাপ্তদের বিভিন্ন শাখায় দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। এতে প্রতি ব্যাচে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে এবং নবীন কর্মকর্তাদের চাকরির শুরুতেই দুই বছরের প্রশিক্ষণ দিলেও কালেক্টরগুলোতে কর্মকর্তার শূন্যতা কম হবে। কর্মচারীরা স্থানীয় হওয়ায় তাদের পদোন্নতি দিলে স্থানীয় সংকট মোকাবিলায় তারা অধিকতর নির্ভরযোগ্য হবেন।ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার জনাব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে অন্য অনেক দপ্তরের কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তন এবং পদোন্নতির সাথেই গ্রেড পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু মাঠ প্রশাসনের কর্মচারীরা তাদের চেয়ে বেশি কাজ করার পরও তাদের পদবি পরিবর্তন এবং পদোন্নতি না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ কাজ করছে। এজন্য তাদের কোনো আর্থিক সংশ্নেষও নেই। তাই বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা তাদের জন্য সুপারিশ করেছেন। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মচারীদের সামাজিক মর্যাদা দেয়া উচিত বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) চাঁদপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ বলেন,এ ছাড়া ১৯৯৫ সালের ১৯ মে সচিবালয়ের প্রায় দুই হাজার তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির কমর্ক্তা পদে উন্নীত করা হয়। পদবি ও গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওভারসিয়ার থেকে উপসহকারী প্রকৌশলী, খাদ্য অধিদপ্তরের টালি ক্লার্ক থেকে উপসহকারী পরিদর্শক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ ক্লার্ক থেকে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সিএমএম কোর্টে নাজির থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের বন্টক সুপারভাইজার থেকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপজেলা লাইভস্টক অ্যাসিস্ট্যান্ট, ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট, কম্পাউন্ডার, ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট এফএ ও পোল্ট্রি টেকনিশিয়ান থেকে উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, খাদ্য অধিদপ্তরের নিরাপত্তা প্রহরী থেকে সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক, দুনীর্তি দমন কমিশনের বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুকিঁ ভাতা প্রদান করেন।

বক্তরা আরো বলেন,সংসদ সচিবালয়ের ক্যাটালগারদের ১৪ গ্রেড থেকে ১১ গ্রেড, খাদ্য অধিদপ্তরের প্রধান সহকারীদের গ্রেড ১৩ থেকে ১০-এ, বাংলাদেশ সচিবালয়ের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে পার্সোনাল অফিসার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফরাস থেকে অফিস সহায়ক এবং সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের এমএলএসএস থেকে অফিস সহায়ক, সুইপার ও ঝাড়ূদারদের পরিচ্ছন্নকর্মী, নৈশ প্রহরীদের নিরাপত্তাকর্মী পদে রূপান্তর করেছে সরকার। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ৩০ মে একই জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগে কর্মরত তহশিলদারদের ১৬ গ্রেড থেকে ১১ গ্রেড পদোন্নতি দিয়ে ইউনিয়ন ভূমি সরকারি কর্মকর্তা এবং সহকারী তহশিলদারদের ১৭ গ্রেড থেকে ১২ গ্রেড পদোন্নতি দিয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা করা হয়। এর ফলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়গুলোতে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এরপর পদোন্নতির ওই প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে জটিলতা নিরসনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ, জনপ্রশাসন, অর্থ ও ভূমি সচিবের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ০৮টি বিভাগীয় কমিশনার অফিস, ৬৪টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়,৪৯২টি উপজেলা নির্বাহী অফিস এবং ৪৯২টি সহকারী কমিশনার(ভূমি) অফিসে কর্মরত ১১-১৬ গ্রেডের চাকুরিজীবীদের পদবী পরিবর্তন ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ হচ্ছে না। তাই উক্ত সরকারি অফিসের চাকুরিজীবীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের দাবী যৌক্তিক স্বীকার করলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে কর্মচারীরা তাদের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে জানুয়ারী, ২০২০ মাস হতে কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। ২৭ ফেব্রুয়ারী,২০২০ এর মধ্যে তাদের দুই দফা দাবী বাস্তবায়ন না হলে মার্চ মাসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী শ্রদ্ধার সাথে উদযাপন শেষে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী মোতাবেক আজ ২৮ মার্চে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মহাসমাবেশের মাধ্যমে সারা দেশে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে ।

Loading

শেয়ার করুন: