মেঘনা বার্তা ডেস্ক ॥
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, সমাজের মানুষ আলেমদেরকে সবচেয়ে বেশী সন্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখে। তাদের কথা গুরুত্ব দেয়, মান্য করে। আলেমগণ চাইলেই একটা সমাজ খুব অল্প সময়ে পরিবর্তন করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। যদি তিনি আল্লাহর বিধান গুরুত্ত্বের সাথে নিজে মেনে চলেন।
তিনি বলেন, কম মেধার সন্তানকে মানুষ মাদ্রাসায় ভর্তি করালেও বাস্তবে দেখা যায় মাদ্রাসার ছাত্রটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়। একজন কোরআনের হাফিজকে পৃথিবীর সকল শ্রেণির মানুষ ভয় পায়। এই মেধাবীরা দেশ গড়ার কাজে সমাজ সংশোধনের কাজে আন্তরিক হলে সমাজে অসংগতি, দূর্ণীতি বা খারাপ কাজ থাকার কথা না। তিনি গতকাল সকাল ১০ টায় চাঁদপুর সদর উপজেলা অডিটরিয়ামে সদর উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে আপনাদের বড় ভূমিকা রয়েছে। সরকার প্রধানের স্পষ্ট নির্দেশনা হলো জনগণ যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তেমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।এ ব্যাপারে আমরা সিরিয়াস আছি। ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও আমি সুযোগ পেলেই প্রতিষ্ঠানে যাব। সেটা স্কুল মাদ্রাসা কলেজ বা যেকোনো প্রতিষ্ঠান হোকনা কেন। আমি দেখতে চাই একটা প্রতিষ্ঠান কতটা সাজানো গোছানো এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। এ দিক থেকে মাদ্রাসাগুলো এগিয়ে থাক,আদর্শ হোক।
জেলা প্রশাসক বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে ছেলে মেয়েদের শেখানো হয় রাস্তায় কীভাবে হাঁটতে হয়।কীভাবে রাস্তা পার হতে হয়। অন্যের সাথে কেমন আচরণ করতে হয়। বিছানাটা গুচিয়ে রাখা, নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা। পরিবারের সদস্যরা পরস্পরকে সহযোগিতা করা। এদিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। এ দায়িত্ব আমাদের শিক্ষকদের।
তিনি বলেন, মাদ্রাসায় ডিবেট কম্পিটিশন, ইংলিশ ডিবেট কম্পিটিশন, ইংলিশ বক্তৃতা কম্পিটিশনের আয়োজন করতে হবে। আমরা বিজয়ীদের পুরষ্কার দেয়ার ব্যাবস্থা করবো। নিজ উদ্যোগে বনভোজন /শিক্ষা সফরের আয়োজন করতে হবে।
সহপাঠক্রমিক কার্যাবলিতে ব্যাপকভাবে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষাদান পদ্ধতি হওয়া উচিত বাস্তবভিত্তিক। যা শিখবে তা যেন বাস্তবে মেনে চলে। ডিবেট কম্পিটিশন আপনারা চাইলে আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হোক আমরা সহযোগিতা দেব। বিষয়ও আমরা দেব।
সবার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পরিবারকে সময় দিতে হবে। স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে এক টেবিলে খেতে হবে। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। এ সম্পর্কের দুরত্ত্ব তৈরি হওয়ায় সন্তান বখে যায়। পরিবারে সালামের কালচার চালু করুন।স্ত্রীকে সালাম দেয়ার অভ্যাস করুন। আপনার কাছথেকে সন্তান কিছু শিখুক। দিন শেষে আপনার পরিবারই আপনার অবলম্বন। সবাইকে নিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করুন। কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে। পরিবারে সুশীল আচরণ চর্চা করুন সন্তান কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়াবেনা। আমি চাই আপনার পরিবারটা সুন্দর হোক।
তিনি আরও বলেন, এ জেলায় আমার নামে কোন নাম ফলক বসবেনা।আমি চাই আপনাদের হৃদয়ে আমার নাম ফলক থাকুক। যা করবেন ঈমানের অনুভূতি নিয়ে করুন। সঠিক সময়ে প্রতিষ্ঠানে আসুন। নিজকে সকলের মধ্যে আদর্শ হিসাবে উপস্থাপন করুন। জীবনে মরনে ভালো থাকবেন। সভায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এফএমএন জামিউল হিকমা, জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
![]()