মো. মহিউদ্দীন, শাহরাস্তি :
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অধস্তন শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অশোভন আচরণের অভিযোগে ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্লাস বর্জন করেছেন শিক্ষকরা। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে মাদ্রাসার শিক্ষকরা ক্লাসে না গিয়ে শিক্ষক মিলনায়তনে অবস্থান নেন। এতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
পরবর্তীতে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন মাদ্রাসায় এসে ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না, এমন অঙ্গীকার করে তিনি উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যান।
শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সকালে সহকারী অধ্যাপক কামাল উদ্দিন তপাদারের সঙ্গে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষককে মারার জন্য অধ্যক্ষ জুতা নিয়ে তেড়ে যান বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। একই দিন দুপুরে অনার্স পরীক্ষার দায়িত্ব বণ্টন ও পালন নিয়ে অপর এক প্রভাসক তাজুল ইসলামের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে অধ্যক্ষ তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়গুলো অন্যান্য শিক্ষকদের মধ্যে জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা রোববার ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। সকাল থেকে তারা ক্লাস না নিয়ে শিক্ষক মিলনায়তনে অবস্থান করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না পেয়ে মাদ্রাসার মাঠ ও সড়কে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন।
এদিকে, খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা মাদ্রাসায় সংবাদ সংগ্রহে গেলে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি বিষয়টিকে মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করেন। এতে অধ্যক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, আমরা পরিস্থিতির শিকার। লাঞ্ছিত হয়েও মুখ খোলার সুযোগ নেই। সেদিন অধ্যক্ষ আমাদের সহকর্মীদের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না, এমন অঙ্গীকার করে তিনি উপস্থিত শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
ওই শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও অধ্যক্ষ কয়েক দফা শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। এসব ঘটনায় একাধিকবার তিনি লিখিত অঙ্গীকারনামা (মুচলেকা) দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই জানান অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন ইতোপূর্বে বহুবার শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরণ করেছেন। গত ১৩ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দুই জন শিক্ষক অশোভন আচরণের প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন জানান, আজকের ক্লাস বর্জনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কয়েক দিন পুর্বে ঐ মাদ্রাসার দুই নারী শিক্ষক অধ্যক্ষের অশোভন আচরণের বিষয়ে একটি অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জনের ফলে মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
![]()