আইন মানিলে সড়ক নিরাপদ হয়ে উঠবে : জেলা প্রশাসক

 

 

আরেফিন সুমন :

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেছেন , সড়ক ঝুঁকিপূর্ণের কারণ জানি। কি করলে সড়ক ব্যবস্থা নিরাপদ হবে তাও জানি। এত কিছু জানা সত্ত্বেও সড়কে দূর্ঘটনা কমাতে পারছি না। তাই নিরপদ হচ্ছে না। এটাই এখন ভাবনার বিষয়। যদি আইন মানি, তাহলে সড়ক নিরাপদ হয়ে উঠবে। তখন নিরাপদ সড়কের জন্য আমাদের মাথা কুড়ে মরতে হবে না। চালকদের আইন মানতে হবে। তাদের বেপরোয়া চালনার কারণে সড়কে বেশিরভাগ দূর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীদেরও আইন মেনে চলতে হবে।

গাড়ি আস্তে চালালে অনেকে চালককে গালিগালাজ করেন। অনেক সময়ে গাড়ি চালককে যাত্রীরা নির্দেশনা দেন। একজন ওভারটেক করলে তখন ঐ যাত্রী চালকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। তিনি গতকাল (২২ অক্টোবর ) সকালে সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে “মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি” কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি” এই প্রতিপাদ্যে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে এক সভায় এ কথা বলেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহারের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আমি চালক ও যাত্রীদের নিয়ে বলেছি। আরেকটা শ্রেণি আছে। তারা হলো পথচারী। পথচারীদের আচরনে অনেক সময় সিএনজি, বাস কিংবা অটোরিকশা দূর্ঘটনায় পড়ে। এই তিনটা শ্রেণি আমরা যদি সতর্ক থাকি তাহলে সড়কে দূর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এই নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন সর্বপ্রথম বাংলাদেশে শুরু করেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তার স্ত্রী সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান।

তারপরে ২০১৮ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দুইজন ছাত্র নিহত হন। সেখান থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

এই দুইটা আন্দোলনের মূল দাবি ছিল নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের সরকার নিরাপদ সড়ক আইন পাশ করেছেন এবং এ দিনটাকে নিরাপদ সড়ক চাই দিবস হিসেবে পালন করছে। এমন কোনো যানবাহন নেই যাতে করে আমাদের আশেপাশের মানুষগুলো মারা যাচ্ছে না। এই শহরে বাস বা ট্রাকের দ্বারা এক্সিডেন্ট কম হয়। এই জেলায় হোন্ডা ও সিএনজিতে মৃত্যুর আধিক্য অনেক বেশি।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে একটা নিউজ হয়েছে সব স্থানীয় পত্রিকায়। শাহারাস্তিতে এক ছেলে আত্নহত্যা করেছিলো। দুইবছর আগে সেই ছেলেটা এক্সিডেন্টে তার পা হারিয়েছিলো। এই দুইবছর যাবত সে পায়ের চিকিৎসা করিয়েছিলো। এখন সে আর তার চিকিৎসা খরচ চালাতে পারছিলো না বলে এই যন্ত্রণা থেকে নিজেকে আর পরিবারকে মুক্তি দিতে একদিন সে আত্নহননের পথ বেছে নেয়। আরেকদিন একজন এসে বললো স্যার আমাকে কিছু সাহায্য করেন। কেন জিজ্ঞাসা করায় সে বললো আমি সিএনজি চালাতাম। চালানো অবস্থায় আমি এক্সিডেন্ট করি। এখন আমি ঠিকমতো বসতেও পারি না। স্যার আমাকে খাবার দেন। শুনুন একটা পরিবার দূর্ঘটনায় পতিত হলে কি কষ্ট সেটা সেই পরিবার হাড়ে হাড়ে টের পায়।

তিনি বিআরটিকে অনুরোধ করে বলেন, আাপনারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট ব্যক্তিকে লাইসেন্স দেন। আর গাড়ি চালনার নিয়মগুলো জন্য বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দেবেন। টার্গেট নেন, আগামী দু’মাসে কমপক্ষে ৪০টি স্কুল ও কলেজে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সড়কে কিভাবে রাস্তা পার হতে হবে। সেইভাবে রাস্তায় সিগন্যাল দিতে হবে । তা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন।

জেলা পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করে বলেন, আপনারা এক দিনে জন্য হলেও সকল যানবাহনের চালকদের ট্রেনিং দেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়ক দূর্ঘটনা অনেক কমে যাবে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা আর নিরাপদ সড়ক চাই এই ব্যনারে সভা, র‌্যালী এসব রুটিন ওয়ার্ক থেকে বের হয়ে আসতে চাই।

সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিশাল দাসের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রকিব উদ্দিন (পিপিএম), সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এম.এস. এন. জামিউল হিকমা, সদর উপজেলা ভূমি কমিশনার রনি দত্ত, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ বাবু।

উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংগঠনের চালক, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ। এর আগে সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে র‌্যালি বের হয়ে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

 

Loading

শেয়ার করুন: