জসিম উদ্দিন :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার একটি ভবন আরেকটি ভবনের উপর হেলে পড়ার অভিযোগ উঠেছে৷ এ নিয়ে তিনপক্ষ সংকটে পড়েছে। দুই ভবনের দুই মালিকের সাথে যুক্ত হয়েছে পক্ষ পৌর কর্তৃপক্ষ।
গত ১৬ মার্চ পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ডের কেরোয়া এলাকায় মিরপুর সড়কের সাবেক প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের ৪তলা ভবনটি পাশের আরেক প্রবাসী আক্তার হোসেনের তিনতলা ভবনে হেলে পড়েছে।
অভিযোগ পেয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সেটু কুমার বড়ুয়া জনসাধারণের নিরাপত্তার খাতিরে উভয় ভবন খালি করার নির্দেশ দেয়।
তাছাড়া চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী উৎপল পোদ্দারকে প্রধান করে ৪সদস্য বিশিষ্ট কমিটিকে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।
কমিটি পরবর্তিতে সরেজমিন তদন্ত করে হেলে পড়ার বিষয়টি কারিগরি দিক থেকে নিশ্চিত হতে বুয়েট বা চুয়েট থেকে টিম নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। ফলে পৌর কর্তৃপক্ষ বুয়েট ও চুয়েট কর্তৃপক্ষের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করেছেন।
এদিকে হেলে পড়ার অভিযোগের ঘটনার পর দেড় মাস পরও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় দুই ভবনের মালিক পক্ষ প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ভবন মালিক সাবেক প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার প্রতিবেশি জমি সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে আমার ভবনটি হেলে পড়েছে বলে অভিযোগ দিয়ে আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে।তিনি বলেন ৪তলা এই ভবন দিয়েই আমার সংসার চলে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক আমি আমার ভাড়াটিয়াদের বের করে দিয়েছি।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ আক্তার হোসেন নিদের্শনা মানেননি। তার ভাড়াটিয়ারা বহাল তবিয়তে রয়েছে। এক দেশে দুই আইন হলে আমরা যাবো কোথায়। আমি নিশ্চিত আমার ভবন হেলে পড়েনি। আমি উপরের ভবনগুলো উঠানোর সময় কার্নিস বাড়িয়ে করেছি। ফলে হেলে পড়েছে বলে মনে হয়। আসলে তা নয়। আমি এই ঝামেলা থেকে মুক্তি চাই।
অন্যদিকে হেলে পড়া নিয়ে অভিযোগকারী প্রবাসী আক্তার হোসেন বলেন, আমি প্রবাসী। সেখানেই আমার আয় রোজগার। আমি গত ১৮ এপ্রিল আমি প্রবাসে ফিরে যাওয়ার কথা। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ ভবনের তদন্ত নিয়ে টালবাহানা করার কারণে আমিও বিপদে রয়েছি। একদিকে আমার ভবনের চিন্তা অন্যদিকে প্রবাসে ফিরে যাওয়ার চিন্তা।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, তদন্ত কমিটি কারিগরি দিক আরো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বুয়েট বা চুয়েটের শরনাপন্ন হতে বলেছেন। আমরা সেই মোতাবেক বুয়েট ও চুয়েটে চিঠি দিয়েছি। শুধু ফিজিক্যাল পর্যবেক্ষণে যে পরিমাণ খরচের কথা জেনেছি, তা কিভাবে সংগ্রহ করা হবে তা নিয়ে চিন্তিত রয়েছি। পৌরসভা এমনিতেই অর্থ সংকটে রয়েছে।
![]()