চাঁদপুর জেলা শহরের প্রবেশদ্বার ‘বাবুরহাট তিন রাস্তার মোড়’কে দৃষ্টিনন্দন করার দাবি

 

সাইম পাটওয়ারী ॥

চাঁদপুর জেলা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাবুরহাট এলাকার তিন রাস্তার মোড়। এটি শুধু একটি মোড় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র, যেখান থেকে চাঁদপুর-ঢাকা, কুমিল্লা এবং নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রক্ষা করা হয়।

মূলত এই সড়কের লক্ষ্য হলো চাঁদপুর থেকে ঢাকায় যাওয়ার একটি বিকল্প পথ গড়ে তোলা, যা ধনাগোদা নদী পার হয়ে দাউদকান্দি পর্যন্ত একটি সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। এই মোড় থেকেই একটি সড়ক ঢাকায়, একটি কুমিল্লায় এবং একটি চাঁদপুর জেলা শহরে সংযুক্ত হয়েছে।

এই মোড় ডিঙ্গে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, ফরিদগঞ্জ, রামগঞ্জ, হাজিগঞ্জ, মহামায়া, বাকিলা এবং শ্রীরায়েশ্বর হয়ে দাউদকান্দি ঘুরে ঢাকায় যাতায়াত করেন। ফলে এলাকাটি এখন একটি ব্যস্ত ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।

যাত্রী চাপের কারণে এখানে গড়ে উঠেছে একটি অস্থায়ী মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও বাসস্ট্যান্ড। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা দোকানপাট খোলা থাকে, যার প্রধান কারণ যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। অল্প সময়ে ঢাকায় পৌঁছানো যায় বলে এই স্থানটির মানুষের কাছে গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। অস্থায়ী স্ট্যান্ড থাকার কারণে প্রতিনিয়ত বাবুরহাট – পেন্নাই সড়কের মাথায় জাম লেগে থাকে। জাম লাগার মূল কারণ হলো রাস্তার গুলির মধ্যে গাড়ি এলোমেলো করে রাখে।

এরশাদ সরকারের সময় এখানে একটি মাইলস্টোনের মাধ্যমে মতলব সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও বর্তমানে সেটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, এই তিন রাস্তার মোড়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ‘দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা’ নির্মাণ করা হোক, যাতে এটি চাঁদপুর জেলার একটি সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়।
স্থানীয়রা জানান, “এই মোড়টি শুধু যোগাযোগের জন্যই নয়, বাণিজ্যিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অথচ যথাযথ উন্নয়ন বা পরিকল্পনার অভাবে এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তাঁদের দাবি, স্থানটি যদি পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা যায় এবং একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়, তবে এটি চাঁদপুর জেলা শহরের একটি গেটওয়ে হিসেবেও পরিচিতি পাবে এবং এলাকাবাসী যেমন গর্ব করতে পারবে, তেমনি পর্যটন ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও উপকৃত হবে।

Loading

শেয়ার করুন: