স্টাফ রিপোর্টার ॥
মতলব উত্তর উপজেলায় রাতের আঁধারে মৎস্য ফিসারীতে জাল ফেলে জোরপূর্বক ১২ লক্ষ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৩ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৩ টার সময় উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের বড়ইকান্দি গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফিসারীকে কেন্দ্র করে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা যায়, এখলাছপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.কবির হোসেন তার দলবল নিয়ে রাতের আঁধারে জহিরাবাদ ইউনিয়নের বড়ইকান্দি গ্রামের নেদামদী মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফিসারীতে রাতের আঁধারে ফিসারীর মালিককে না জানিয়ে মাছ শিকার করতে গেলে স্থানীয় জনতা খবর পেয়ে তাকে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে তার পরিবারের লোকজন কবির হোসেনকে উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
মৎস্য ফিসারীর রক্ষণাবেক্ষণকারী জামাল মিয়াজি জানান, এই ফিসারীটি আমার জেঠাতো ভাই বাচ্চু মিয়াজির নামে লিজ আছে। আমি দেখাশোনা করি। গত দুইমাস যাবৎ কবির হোসেন ফিসারীটি দখলের চেষ্টা করে। পরে আমি তার বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি করি। পরবর্তীতে কবির আর এই ফিসারীতে ঝামেলা করবে না বলে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। আমিও জিডি প্রত্যাখ্যান করি। এর পরেও প্রায় সময় কবির হোসেন রাতের আঁধারে ফিসারী থেকে মাছ ধরে নিয়ে যেতো।
তারই ধারাবাহীকতায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে রবিবার রাতে কবির হোসেন তার লোকজন নিয়ে ফিসারিতে মাছ ধরতে গেলে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে মাছ ধরতে বাধা প্রধান করলে এক পর্যায়ে কবির হোসেন তাদের প্রতি চওড়া হয়ে উঠেন এবং জোরপূর্বক মাছ ধরার চেষ্টা করলে কবির হোসেন কে স্থানীয় এলাকাবাসী গণপিটুনি দেয়। এবং এ সময় কবির হোসেনের লোকজন স্থানীয়দের মারধর করেন এবং আমার ফিসারী থেকে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন জানান, কবির হোসেন এর আগে কয়েকবার এই ফিসারী দখলের চেষ্টা করেছে। তার বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেও থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছিল। ঐ সময় সে আর এই ফিসারী নিয়ে আর কোন ঝামেলা করবে না এমন স্বীকারউক্তি দিলে জামাল হোসেন মিয়াজি আপোষ মীমাংসা করে বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধান করে।
রবিবার ভোর রাতে কবির হোসেন পুনরায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার লোকজন নিয়ে রাতের আঁধারে ঐ ফিসারীতে মাছ ধরতে গেলে লোকজন খবর পেয়ে তাকে উত্তম মাধ্যম দিয়েছেন বলে আমি শুনেছি।
জহিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যাম গাজী সেলিম মিয়া জানান, কবির হোসেনের বাড়ীতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হক জানান, এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ হয়েছে। একজন আটক আছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
![]()